১৪ জানুয়ারি ২০১৯

কামরুল ইসলাম মাহি (অতিথি প্রতিবেদক) : প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন অপেক্ষা শুধু ভক্তগনের মিলনমেলার। প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলীর ঈসালে সাওয়াব উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়েছে জকিগঞ্জ এলাকায়। ভক্ত-মুরিদানদের পদচারণায় প্রতিবছরের মতো মুখরিত হতে চলেছে ফুলতলীর ঐতিহাসিক বালাই হাওর।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই আলেমের ১১তম ওফাত দিবসে অনুষ্ঠিত হবে ঈসালে সওয়াব মাহফিল। এই ঈসালে সওয়াব উপলক্ষ্যে মাহফিলের জন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে।
এব্যাপারে বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলার সভাপতি মাওলানা হুসামউদ্দিন চৌধুরী ফুলতলীর ব্যক্তিগত সহকারী ফজলে রাব্বি সাঈদ বলেন, আমাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে দুই লাখ বর্গফুটের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। ৮০ হাজার মানুষ এক সঙ্গে এখানে বসতে পারবেন। এছাড়াও প্যান্ডেলের বাইরেও চট দেওয়া হয়েছে। যাতে করে বাইরেও মানুষ বসতে পারেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন ৫শ এর মত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও থাকবেন। সকাল ১০টায় ফুলতলি সাহেবের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
তিনি আরোও জানান, গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রতিবারের ন্যায় একই স্থানে তৈরি করা হয়েছে নির্ধারিত মাঠ। বিশেষ সুবিধার্তে মাহফিলের প্রয়োজনীয় দিকর্নিদেশনা সম্বলিত লিফলেট ইতোপূর্বে সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে। ছাহেববাড়ির প্রবেশ পথে টানানো হয়েছে মাহফিলের দিকর্নিদেশনা সম্বলিত মানচিত্র।
অপরদিকে- কার, মাইক্রোবাস, বাস-মিনিবাস, পাজারো-জিপ হাজারো গাড়ির বহরের গন্তব্য এখন ফুলতলী ছাহেব বাড়ি। প্রত্যেক বছরের মতো এবারোও থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। মেহমানদের জন্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে মাহফিলের কার্যক্রম। এরপর খতমে কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান।
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, জিকির মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা। প্রতি বছরের মতো এবারও মাহফিলে সমবেত হবেন লক্ষাধিক মানুষ। মাহফিলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত পীর-মাশায়িখ, আলেম-উলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখবেন। আছরের নামাজের শেষে ও ফজরের নামাজের শেষে থাকবে শিরনীর ব্যবস্থা। ১৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত ঈসালে সাওয়াব পরদিন ১৬ জানুয়ারী ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে মাহফিল।
জকিগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, আমাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সার্বিক শৃঙ্খলার জন্য পুলিশ কাজ করছে।