২ জানুয়ারি ২০১৯

অতিথি প্রতিবেদক: সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের ১৭ টি এবং জেলার ৬টি আসনের ৫টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। অনেকে মনে করছেন সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে ভরাডুবি থেকে নেয়া শিক্ষাই কাজে লেগেছে আওয়ামী লীগের।
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে দলীয় কোন্দল আর অতি আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। সকাল থেকে নৌকার ব্যাজ পরে কর্মীরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে শোডাউন করলেও দুপুরে বদলে যায় মাঠের চিত্র। নিজেদের কর্মীকে নৌকার ব্যাজ পরিয়ে কেন্দ্রে পাঠানোর কৌশল নেয় বিএনপি। ফলাফল আসে হাতেনাতে। ধানের শীষের অস্তিত্ব নেই ভেবে মাঠ ছেড়ে মৌজে মন দেয় নৌকার কর্মীরা। এই সুযোগে নৌকার ব্যাজ পরেই আখের গুছিয়ে ফেলে ধানের ধানের শীষের কর্মীরা। ভোট শেষে ফলও আসে ধানের শীষের পক্ষে।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সতর্ক ছিল আওয়ামী লীগ। নৌকার ব্যাজের ছড়াছড়ি ছিল না মাঠে। তার বদলে পুরো সময় কেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান নেয় নৌকার কর্মীরা। ফলে এক সিটিতেই লক্ষাধিক ভোটে পিছিয়ে যায় ধানের শীষ। সিটি ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের সিটি করপোরেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের একে আব্দুল মোমেন পান ১ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪ ভোট। অন্যদিকে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পান মাত্র ৭০ হাজার ভোট। উপজেলা ও অন্যান্য আসনেও একই কৌশল নেয় আওয়ামী লীগ।
বিগত সিটি নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগের ছিল ছড়াছড়ি। এবার ভোটের দিন কেন্দ্রের ভেতরে হট্টগোল করেনি আওয়ামী লীগ। অনেক কেন্দ্রে বাইরে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চললেও ভেতরে পরিস্থিতি ছিল বাহ্যত শান্ত। দিন শেষে সবই গেছে আওয়ামী লীগের পক্ষে।
সিটি নির্বাচনে জনপ্রিয়তা আর কৌশল খাটিয়ে চমকদেখানো জয় পেয়েছিলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। তবে সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুক্তাদিরের পক্ষে মাঠে নেমে চমক দেখাতে ব্যর্থ হলেন তিনি। অন্যদিকে সিটি নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এবার ছিলেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী একে আব্দুল মোমেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক। খাল কেটে কুমির আনার ব্যাপারে প্রথম থেকেই সতর্ক ছিলেন তিনি। সিটি নির্বাচনের ঠেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগাতে সফল কামরান।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যাই হোক না কেন জাতীয় নির্বাচনে নেতাকর্মীরা ছিলেন একট্টা। তবে সিটি নির্বাচনে আমাদের কৌশলের দুর্বলতাগুলোর পুনরাবৃত্তি এবার আমরা হতে দেইনি। ফলে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আমাদের প্রার্থীরা।