২৯ ডিসেম্বর ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : টানা দু’বারের নির্বাচনে নৌকা-ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় বিএনপির মধ্যে সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে নির্বাচনী আমেজ নেই বললেই চলে। তবে এই আসনের নির্বাচনী দৌড়ে মুল লড়াই হয়ে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া (লাঙ্গল) ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোননীত প্রার্থী মুকাব্বির খানের (সূর্য) মধ্যে।
এ আসনে মুল দুই প্রতিদ্বন্ধি ছাড়াও ভোটের মাঠে রয়েছেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. এনামুল হক সরদার (সিংহ), মুহিবুর রহমান (ডাব প্রতীক), খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (দেয়াল ঘড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব (মোটর গাড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোঃ আমির উদ্দিন (হাত পাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোঃ মনোয়ার হোসাইন (আম), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এর মোঃ মোশাহিদ খান (টেলিভিশন)।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ইলিয়াস পত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রার্থীতা উচ্চ আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়ার সাথে সাথে এ আসন থেকে হারিয়ে যায় নির্বাচনী আমেজও। পরবর্তীতে গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খানকে ঐক্যফ্রন্ট আনুষ্ঠানিক সমর্থনের পর কিছুটা হলেও জমে উঠে নির্বাচনী মাঠ।
কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা।
প্রশাসনের ভাষায় এই আসনে নির্বাচনী সমতল ভূমি ছিল। যার কারণে প্রচারণার ক্ষেত্রে সকল প্রার্থীই সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে নির্বিঘ্নে প্রচারকার্য সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচনে প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় কোন প্রার্থী না থাকায় এমন শান্ত পরিস্থিতি ছিল বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নির্বাচনী এই আসনে ২লাখ ৮৬ হাজার ৫শ’ ৮৬জন ভোটার রয়েছেন যার প্রায় অর্ধেকেই নারী। ১২৭টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। কেন্দ্র গুলোর মধ্যে ওসমানীনগরে ৩০টি এবং বিশ্বনাথে ২৬টিকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
তবে নির্বাচনে সব ধরণের ঝুঁকি মোকাবেলায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আনসার এবং গ্রাম পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
ওসমানীনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল লেইছ বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪ প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ওসমানীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম আল-মামুন ও বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা জানান, এই আসনে সকল প্রার্থী প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পেয়েছেন। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।