২৮ ডিসেম্বর ২০১৮


আ.লীগে উৎসব, বিএনপিতে আতংক

শেয়ার করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের আর মাত্র দুইদিন বাকি। শুক্রবার সকাল ৮ টার পর থেকে কোনো প্রার্থী কিংবা রাজনৈতিক দল প্রচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নিবার্চন।

প্রচারণার শেষ দিনে জমে উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেনের শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। এদিকে মহাজোট প্রার্থীর প্রচারণায় উৎসবমূখর পরিবেশ দেখা দিলেও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নিবাচর্নী কার্যালয় এবং গণসংযোগ থেকে নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পুলিশের বাধায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে নির্বাচনী সমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন মুক্তাদির।

সংসদ নির্বাচনের মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে দিনভর গণসংযোগের পাশাপাশি বিকেল সিলেট শহরে ড. আবদুল মোমেনের নেতাকর্মীদের বিশাল নিবার্চনী শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং মহাজোট সমর্থীত নৌকার প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেনের পক্ষে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগরী এবং সদর উপজেলার নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খন্ড খন্ড মিছিল আসে খানিক পর পর। বিকেল পর্যন্ত কোর্ট পয়েন্টে নৌকার সমর্থনে হাজার হাজার নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় সিলেট-১ আসনের নৌকার প্রার্থী ড. একে আবদুল মোমেনসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের র্শীষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হন। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে একটি বিশাল প্রচার মিছিল নগরীর জিন্দাবাজার হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ সময় নির্বাচনী গান, ‘জিতবে আবার নৌকা, জয় বাংলা’, বাউল শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের ‘ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূর পঙ্খী নায়’ গানের তালে তালে আর নৌকার নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সিলেট নগরী।

সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আপনাদের ভোটে গত ১০ বছরে আমি আপনাদের প্রতিনিধি ছিলাম। সর্বোচ্চ চেষ্টা ও আন্তরিকতা দিয়ে আপনাদের সেবা করেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১০ বছরে টানা দুই মেয়াদে সরকার দেশের জনগণের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি উন্নয়ন করেছে। যার ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে একটি উন্নয়ন ও মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

তিনি বলেন, ড. মোমেনকে জাতির পিতার কন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট-১ আসনে প্রার্থী করেছেন। এ আসনে আপনারা আমাকে যেভাবে নির্বাচিত করার মাধ্যমে সিলেটসহ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছেন, সেভাবে আমার ছোট ভাই মোমেনকেও ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। সিলেট-১ আসনের জনগণের প্রতি আমার প্রত্যাশা ও প্রার্থনা- আপনারা ৩০ ডিসেম্বর মোমেনের বাক্সে ভোট দেবেন, নৌকার বাক্সে ভোট দেবেন, শেখ হাসিনার বাক্সে ভোট দেবেন।

এসময় আরও ব্ক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনের প্রার্থী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

গণমিছিল ও সমাবেশে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্খী অংশ নেন।

এদিকে, সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সর্বশেষ নির্বাচনী সমাবেশ পুলিশী বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। কোর্ট পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মীদের আটক করেছে পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী।

বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশী বাধার মুখে সর্বশেষ নির্বাচনী সমাবেশ না করেই ফিরে যেতে হয় খন্দকার মুক্তাদিরকে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিলেট নগরীর আম্বরখানায় অবস্থিত নূরে আলা কমিউনিটি সেন্টারে খন্দকার মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ ও বিজিবি। এসময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের আরো অন্তত ৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এর আগে দুপুরে নগরীর হাউজিং এস্টেটে গণসংযোগ থেকে ফেরার পথে আটক হন আরো ৭ জন।

সন্ধ্যায় কোর্টপয়েন্টে শেষ নির্বাচনী সভা করতে গেলেও সেখানে হানা দেয় পুলিশ। আটক করে নেয়া হয় আরো ২৬ জনকে। পুলিশী বাধার মুখে সমাবেশ করতে না পেরে কোর্ট পয়েন্টে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আওয়ামী লীগের এই জুলুম আল্লাহ সহ্য করবে না। এই অন্যায় জুলুমের বিচার সিলেটবাসীর কাছে দিলাম। ৩০ তারিখ ধানের শীষ প্রতীকে সিলেটবাসী তাদের গণরায় ব্যক্ত করে এই অন্যায় অবিচারের জবাব দেবেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোন ধরনের উস্কানি ছাড়াই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আমার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে তল্লাশির নামে পুলিশ- বিজিবি তান্ডব চালিয়েছে। কার্যালয়ে কর্মরত নিরপরাধ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাদ মাগরিব কোর্ট পয়েন্টে আমার পূর্ব নির্ধারিত শেষ নির্বাচনী সভা পন্ড করে দিয়ে সেখান থেকে প্রায় ২৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনেই আমাদের নেতাকমীদের উপর প্রশাসনকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে।

আর পুলিশ বলছে যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা সকলেই বিভিন্ন মামলার আসামী। পুলিশ তার রুটিন দায়িত্ব পালন করছে, কোন প্রার্থীকে হয়রানি করতে নয়।

শেয়ার করুন