৬ ডিসেম্বর ২০১৮
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : ৬ ডিসেম্বর। কুলাউড়া শত্রুমুক্ত দিবস। একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এই দিনে সম্পূর্ণরূপে শত্রুমুক্ত হয়। এই সংবাদে ঐদিন শহর ও শহরতলিতে ছাত্র জনতার শ্লোগানে শ্নোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো শহর। এরপর থেকে ঐ দিনটিকে কুলাউড়াবাসী শত্রুমুক্ত দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন আজও।
একাত্তরের ৭ মে পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন দাউদ ও মেজর ওহাহিদ মোগলের নেতৃত্বে হানাদার বাহিনির দুটি দল চুপিসারে কুলাউড়ায় প্রবেশ করে। এই সময় শহরের অদুরে কাপুয়া সেতুর কাছে তাদের হাতে প্রথম শহীদ হন উপজেলার জয়চন্ডি ইউনিয়নের মোজাহিদ কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আছকির আলী ও হাবিব উদ্দিন। ঐদিন সন্ধ্যায় হানাদার বাহিনীর দোসররা শহর সংলগ্নম বিছরাকান্দি গ্র্রামের ছলিম উল্লাহ (৪০) এবং সোনাপুর গ্রামের আরশদ উল্লাহ (৪২) কে হত্যা করে। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন বনাঞ্চল বেষ্টিত এই উপজেলার অবস্থান ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের চোরাগুপ্তা হামলার অনুকূলে।
৬ ডিসেম্বর ভোরে কুলাউড়ায় মিত্র বাহিনীর দুটি জঙ্গী বিমান আকাশ থেকে কয়েক দফা পাক সেনাদের ঘাঁটিতে গোলা বর্ষণ করে তাদের কে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই সুযোগে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধর্মনগর থেকে হরদয়াল সিংহের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনা বাহিনীর ৬৭ রাজপুত রেজিমেন্টের একটি বিরাট দল সাগরনাল ও কাকঁড়া চাবাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগে মিলিত হয়ে শুরু করে সন্মুখ যুদ্ধ। যুদ্ধে জীবন দিতে হয় ২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা সহ প্রায় ৩শ সাধারণ মানুষকে। যুদ্ধ চলাকালে পাক সেনারা রাজাকার, আলবদর ও আল সামস এর সহযোগিতায় সাধারণ মানুষকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে।
কুলাউড়া মুক্ত হবার মাস খানেক আগে পাক বাহিনীর দোসররা কুলাউড়া শহর সংলগ্ন সোনাপুর, বিছরাকান্দি ও দেখিয়ারপুর এলাকা থেকে সিকান্দর মিয়া, পনাউল্লাহ, আতাউল্লাহ ও দরছ মিয়াকে ধরে নিয়ে যায়। তাদের পরিবার আজ পর্যন্ত এদের সন্ধান পায় নি। ৩ নভেম্বর ১৯৭১ ইং হানাদার বাহিনী কুলাউড়ার পাশর্^বতী পোসাইনগর গ্রাম থেকে এক রাতে উপেন্দ্র ঘোষ, নরেশ ঘোষ, হরেন্দ্র মালাকার, তমছির আলী, সুরেশ দেব, চিত্ত দাস, ধিরাই দাস, শনি ঘোষ, নিখিল ঘোষ, দীগেন্দ্র দাস, মহেন্দ্র শুক্লবৈদ্য, অনিল দাস, মহেন্দ্র দাস ও নিবারণ দেব কে ধরে এনে কুলাউড়ার রেল স্টেশনের দক্ষিণ পাশে তাদেরকে দিয়ে গর্ত করে ১৪ জনকে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
সেই ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি আজ ও কালের সাক্ষী হয়ে গো-চারন ভূমিতে পরিণত হয়ে আছে। মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনরা বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে দিন যাপন করছেন। শহরের প্রবেশ মুখে একটি স্মরণস্তম্ভ ছাড়া স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বধ্যভূমি গুলি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।