১৭ আগস্ট ২০১৭


সুনামগঞ্জে ৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নেই নিজস্ব ভবন

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : স্থানীয় সরকারের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ। গ্রামীণ পর্যায়ে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অপরিসীম। এখান থেকেই পরিষদের দাফতরিক ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলার ৮৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩৬ টি ইউনিয়নের নিজস্ব ভবন নেই। স্থায়ী ভবন না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নিজস্ব ভবন, ভাড়াকৃত ভবনে দাফতরিক পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করাসহ দাফতরিক ও প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, পরিষদের নিজস্ব জায়গা নির্ধারণ না হওয়া, পূববর্তী জন প্রতিনিধিদের জোরদার তৎপরতা না থাকাসহ সরকারি বরাদ্দের নানা সীমাবদ্ধতাকে কমপ্লেক্স না হওয়ার ক্ষেত্রে দায়ি করছেন তারা। তবে জমি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রস্তাবনা পেলে বাকিগুলোও নির্মাণ করে দেয়া হবে জানিয়েছেন জেলা স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ।

জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য মতে, সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স আছে মাত্র ৪ টিতে। মোল্লাপাড়া, সুরমা, গৌরারং, কাঠইর, মোহনপুর ইউনিয়নে কমপ্লেক্স নেই।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি কমপ্লেক্স ভবন আছে, কিন্তু পশ্চিম পাগলা, পশ্চিম বীরগাঁও, পাথারিয়া, দরগাপাশায় ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নেই।

দিরাই উপজেলায় ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে কমপ্লেক্স থাকলেও ভাটিপাড়া, চরনারচর ,করিমপুর, কুলঞ্জে নেই। রফিনগর, রাজানগর ও সরমঙ্গলে নির্মাণাধীন রয়েছে ভবনের কাজ।

শাল্লা উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের ১টির ভবনের কাজ নির্মাণাধীন থাকলেও আটগাঁও, হবিবপুর, বাহারা ইউনিয়নের ইউনিয়ন কমপ্লেক্স নেই।

তাহিরপুর উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ টি ইউনিয়নে কমপ্লেক্স থাকলেও বড়দল (উত্তর) ও বালিজুরী ইউনিয়নে ভবন নেই। তবে তাহিরপুর সদর ইউনিয়নে কমপ্লেক্স নির্মাণাধীন রয়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স আছে মাত্র একটিতে। জামালগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ (উত্তর) বেহেলী, ভীমখালী, ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ভবন নেই।

ছাতক উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ৭ টি ইউনিয়নে ইউনিয়ন কমপ্লেক্স থাকলেও ছাতক সদর, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও, ছৈলা আফজালাবাদ, জাউয়াবাজার, সিংচাপইড় ইউনিয়নে ভবন নেই। তবে উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নে পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণাধীন রয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে পরিষদ কমপ্লেক্স থাকলেও মীরপুর, রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ইউনিয়নে ভবন নেই।

ধর্মপাশা উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭ টি ইউনিয়নে পরিষদ কমপ্লেক্স থাকলেও মধ্যনগর, বংশীকুন্ডা (দক্ষিণ), বংশীকুন্ডা (উত্তর) এ ভবন নেই।

দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজান কাজী বলেন,‘আমরা পাকিস্থান আমলের পুরাতন এক ভবনে ইউনিয়নের প্রশাসনিক ও দাফতরিক কাজ করছি। বৃষ্টি-বাদলের দিনে ভবনের ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে। স্বল্প পরিমাণ জায়গা হওয়ায় মানুষকে বসার স্থানও দেওয়া যায় না। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স এর জন্যে ৪৫ শতাংশ জমি নির্বাচন করে জেলা স্থানীয় সরকার শাখায় একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। কমপ্লেক্সটা হলে আমাদের সেবার মান আরো ভাল হতো।’

সদর উপজেলা কাঁঠইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল ইসলাম বলেন, ‘৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আমরা অস্থায়ী ভাবে একটি ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ইউনিয়ন কমপ্লেক্স না হওয়ায় নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে আমাদের। এমনকি হাওরে ফসলহানির কারণে কৃষকদের জন্য আসা ত্রাণ রাখার জায়গাও আমাদের নেই।’

জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘অনেকগুলো ইউনিয়নের পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। আরো কিছু প্রস্তাবনা আমাদের কাছে জমা হয়েছে। বাকিগুলোর প্রস্তাবনা দেয়ার জন্যে জন প্রতিনিধিদের তাগাদা দেয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ৩৬টি ইউনিয়নের কমপ্লেক্স করে দেয়া হবে।

 

(আজকের সিলেট/১৭ আগস্ট/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন