১৮ নভেম্বর ২০১৮


কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে নাহিদ

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। প্রার্থীদের জটে এবার সিলেট-৬ আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এবার এ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন ১২জন নেতা। শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই এ আসনের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযাগ না থাকায় ক্ষুব্ধ তারা। এছাড়াও মন্ত্রী হবার পর তাঁর পাশে কেউ যেতে না পারলেও নাহিদ তাঁর আস্থাভাজন কয়েকজনকে সিলেট-৬ আসন দেখভালের দায়িত্ব দেন। যাদেরকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ‘মন্ত্রীর খলিফা’ হিসেবে ডাকেন। এ আসনে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯০৩ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৫৬ জন এবং নারী এক লাখ ৮৮ হাজার ৪৭ জন। এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার তৃণমূলকে কাছে টানতে ঘরোয়া বৈঠকের ডাক দিয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে এই বৈঠকের আয়োজন করলেও এতে অংশ নেবেনা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সামাদ জিলু। তিনি জানান, মন্ত্রী হওয়ার পর তৃণমূলের সাথে আর যোগাযোগ ছিলো না তাঁর। যার কারণে এই অব্জলসহ বিয়ানীবাজারের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ। নির্বাচিত হওয়ার পর সিলেট-৬ আসনের দেখভাল করার দায়িত্বে থাকেন মন্ত্রীর ৮জন খলিফা। তাদের কথামত চলতেন নাহিদ ভাই। এককথায় তিনি খলিফা বেষ্টিত ছিলেন। তৃনমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর কাছেই যেতে পারতনা। গোলাপগঞ্জের খলিফারা কারা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের রেজিষ্ট্রার বদরুল ইসলাম শুয়েব, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিসবাহ উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতা। এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে রাখতে হলে প্রার্থী বদল করে অন্য যেকাউকে দিলেই বিজয় নিশ্চিত। উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী হয়ে যেসব উন্নয়ন করার কথা ছিলো সেগুলো হয়নি। তবে উন্নয়ন না হলেও তার খলিফাদের ব্যাপক উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০ বছর শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এই সময়ে সিলেটের বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে কয়েকটি স্কুল ছাড়া আর তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। মন্ত্রীর অনুপস্থিতি এই অঞ্চগুলার দেখাভাল করতেন তার খলিফারা। তৃণমূল নেতাকর্মীদেরকে মন্ত্রীর খলিফারা তাঁর কাছে যেতে দিতেন না। এমনকি বিভিন্ন সভায় মন্ত্রীর খলিফারা বক্তব্য রাখলেও ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কোন নেতাকর্মীদেরকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হতনা। মন্ত্রীও সেই সময় তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও খোঁজ খবর নিতেন না। খলিফাদের মধ্যে রয়েছেন- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের রেজিষ্ট্রার বদরুল ইসলাম শুয়েব, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র আব্দুস শুকুর, বিয়ানীবাজারের কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা, আব্দুল আউয়াল ও এবাদ আহমদ। মূলত এরাই বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের নিয়ন্ত্রণক হিসেবে কাজ করতেন। সাংসদের দায়িত্বে থাকা নাহিদের আসনে আওয়ামী লীগের ১২ নেতা দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার ফলে ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে লড়াইয়ে নামতে হয়েছে নাহিদকে। ১৯৯৬ সালে ৭ম সংসদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নাহিদের বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে এই আসনটি আওয়ামী লীগ ফিরে পায়। এরপর নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেও আবার ২০০১ সালে হাতছাড়া করে আওয়ামী লীগের। এরপর ২০০৮ সালে ৯ম সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমানকে হারিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর পর টানা ১০ বছরে এ আসনটি দখলে রাখেন তিনি। তবে প্রায় ৬বছর থেকে সিলেট-৬ আসনের গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার চষে বেড়াচ্ছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্টজন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন বলেন, মন্ত্রী প্রতি মাসে ৮-১০ দিনের সফরে তাঁর নির্বাচনি এলাকায় আসেন। এসময় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে ঘরোয়া বৈঠক করেন। পাশাপাশি তিনি গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করেন। তাঁর আমলে এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মন্ত্রী তৃণমূলের খোঁজখবর রাখেন না তিনি কয়েকজন খলিফাধারা নিয়ন্ত্রিত এ প্রসংঙ্গে তিনি বলেন, এসব কথা সত্য নয়। তৃণমূলের সাথে যোগাযোগা আছে বলেন নাহিদ ভাই পরপর দুবার মন্ত্রী হয়েছেন। যারা তাঁর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অব্যধ ফায়দা হাসিল করতে পারেনা তারাই নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সিলেটে ৬ আসনে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন নিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরওয়ার হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা চৌধুরী সালেহ আহমদ, লন্ডন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফছার খাঁন সাদেক, বাংলাদেশ যুব-মহিলা লীগের সহ-সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটির প্যানেল মেয়র ডেইজী সরওয়ার, নিউ জাস্ট স্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি সফিক উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আনাম মিন্টু, যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সামসুল ইসলাম বাচ্চু, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ পাপলু, উপজেলা তাঁতীলীগের আহবায়ক হেলাল আহমদ চৌধুরী। বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব, শিক্ষামন্ত্রী সিলেট ৬ আসনের জন্য তেমন কিছু করেননি। এছাড়াও তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর কোন যোগাযোগ নেই। অথচ এসব নেতাকর্মীরা তাকে পরপর দুইবার মন্ত্রী বানিয়েছে। তিনি তাঁর খলিফা দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। নেতাকর্মীরা তাঁর কাছেই যেতে পারেনা। উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দশ বছরে সিলেট ৬ আসনে কয়েকটি স্কুল ছাড়া আর উল্লেখ যোগ্য কোন উন্নয়ন হয়নি। বরং তাঁর আস্থাভাজন হওয়াতে অনেকেই বিত্তশালী হয়েছেন। দশ বছর থেকে আমরা ভাঙা রাস্তা দিয়েই চলছি। মন্ত্রী হিসেবে তিনি শতকরা একভাগ ভূমিকা রেখেছেন। যার কারণে আমরা ক্ষোভে প্রার্থী হয়েছি। দল থেকে তাকে মনোনয়ন যদি আবারও দেয়া হয় তাহলে তার সাথে থাকবেন কিনা এ বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে প্রতীক থাকবে নৌকা যার কারণে আমাদেরকে নৌকার স্বার্থে থাকতেই হবে। তবে তাতে কোন কাজ হবেনা। এই অঞ্চলের মানুষ তাঁর প্রতি ক্ষুব্ধ।

শেয়ার করুন