১৮ নভেম্বর ২০১৮


হঠাৎ আলোচনায় ইলিয়াসপুত্র আবরার

শেয়ার করুন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনে ধানের শীষ প্রতিক পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনা ও বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার নয়াপল্টনস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মা ও নিজের দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেন আবরার। এর আগে এই আসনে লুনাই ছিলেন বিএনপির একক মনোনয়ন প্রত্যাশী।

এদিকে, মা-ছেলের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ায় বিশ্বনাথ-ওসমানীনগরের সর্বত্র ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লনা ও পুত্র আবরারকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ নিয়ে সিলেট-২ আসনের রাজনীতিতে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।

বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিয়ে কিছুটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার দপ্তর থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া ইলিয়াসপতœী তাহসিনা রুশদীর লুনার। ফলে, কৌশলগত কারণে সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নের জন্য তাহসিনা রুশদীর লুনা ও তার পুত্র ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব পৃথক দু’টি দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়েছে।

যদি কোনো কারণে লুনা নির্বাচনে অংশ না নিতে পারেন, তাহলে এই আসন থেকে তার বড় পুত্র আবরার ইলিয়াস অর্ণব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন-এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর আবরারও যদি কোন কারণে নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে-তার বিকল্প প্রার্থী হিসেবেই নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ছোট ভাই আছকির আলীকে চিন্তা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে-আছকির আলীর পক্ষেও সংগ্রহ করা হয়েছে দলীয় মনোনয়ন ফরম। তবে, এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, এই আসনে আমার নির্বাচন করার ইচ্ছে, ছেলে করবে না। একটা কৌশল হিসেবে আবরার মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছে। আমার ছেলের দাখিলকৃত দলীয় মনোনয়ন ফরমে উল্লেখ রয়েছে- যদি কোনো কারণে আমি (লুনা) নির্বাচন করতে না পারি, তবে সে (আবরার) এই আসনে নির্বাচন করবে।

নিজের মনোনয়ন বাতিল হবার মতো কোন কারণ রয়েছে-কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন- এমন আশংকা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উপর শতভাগ আশ্বস্ত হবার মতো কিছু নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হলে বিএনপির সকল প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদী।

সিলেট-২ আসনের ভোটাররা ইলিয়াস আলীর প্রতি বেশ আবেগতাড়িত। তাই এই আসনে তাহসিনা রুশদীর লুনা অথবা পুত্র আবরার ইলিয়াস অর্ণব প্রার্থী হলে ভোট বিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদী বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এছাড়া, লুনার পরিবর্তে আবরার ইলিয়াস যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে ভোটের সমিকরণ হবে জটিল, এমনটাই ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক বশির আহমদ বলেন, যদি কোন কারণে ম্যাডামের (লুনার) মনোনয়ন বাতিল করা হয়, সে ক্ষেত্রে ইলিয়াসপুত্রই হবেন এই আসনে বিএনপির কান্ডারী। আমাদের কাছে তারা আমাদের পরিবার। তাদের পরিবারের যেই প্রার্থী হবেন তাকেই বিজয়ী করতে আমরা প্রাণান্ত পরিশ্রম করবো।

শেয়ার করুন