৩০ অক্টোবর ২০১৮


সুনামগঞ্জে কাজ রেখে ঠিকাদার উধাও

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের পাগলা বীরগাঁও সড়কে পাশে পাখিমারা হাওরের পাড়ে গত বছরের প্রথম দিকে শুরু হয়েছিল বীরগাঁও খালপাড় কমিউিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় ভবন নির্মাণের কাজ। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রথম ফ্লোর শেষ করার পর থমকে যায় নির্মাণ কাজ। এক বছরের বেশি সময় ধরে দেখা মিলেছে না ঠিকাদারের। ফলে ঝুলে আছে কাজ। কিন্তু এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা বলছেন, ঠিকাদারের খোঁজ নিয়েও কোন হদিস পাচ্ছেন না তারা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানানো হলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তাই ক্লিনিক বাস্তবায়ন কখন হবে বা আদৌ হবে কি না, এমন প্রশ্ন করছেন তারা।

সিলেট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পূর্ববীরগাঁও খালপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকসহ জেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ পায় সিলেটের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য না দিলেও ঠিকাদার টিংকু সম্পর্কে জানান সংশ্লিষ্টরা। তিনি সিলেটের সাবেক এক মেয়রের আত্মীয় বলে জানা গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণের কাজ তিনি পেলেও সাব ঠিকাদারের মাধ্যকে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেন টিংকু। পূর্ববীরগাঁও খালপাড় কমিউনিটি ক্লিনিকটি হবিগঞ্জের নির্মাণ শ্রমিকদের সাব ঠিকাদারে দেন টিংকু। শ্রমিকরা ক্লিনিকের প্রথম ফ্লোর শেষ করার পর কাজ রেখে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে লাপাত্তা রয়েছন ক্লিনিক বাস্তবায়নে থাকা মেস্তরি। কাজ সম্পন্ন করতে সিলেট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে বিলম্ব করছেন ঠিকাদার টিংকু।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পরও চলতি অর্থবছরে কাজ বাস্তবায়ন না হলেও আগামী অর্থবছরের প্রথম দিকে কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেয়া হচ্ছে বলে জানান সিলেট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী ইঞ্জিনিয়ার মনিরুজ্জামান। কয়েকদিনের মধ্যে ক্লিনিকের বর্তমান কাজের অবস্থা পরির্শন করে আসবেন বলেও জানান তিনি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদাসিীনতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ছিলো। তারা অন্যের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়ে সময়মতো কাজটি তুলে আনতে পারেনি। যেহেতু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরো কয়েকটি কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করেছে তাই তাদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ে কাজ বাস্তবায়নের জন্যে আমি আবারও তাগাদা দিবো।’

তিনি বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। নির্মাণ কাজ সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তবে কাজ যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সেই দিকে নজর দিবো।’

এদিকে ঠিকাদার টিংকুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘গতবছর কিছু কাজ করে মেস্তরি বাকি কাজ রেখে পলায়ন করে। বর্ষা মৌসুম চলে গেলো, শুষ্ক মৌসুম আসার পরও অসম্পন্ন কাজ শরু হয়নি। দুই বছরে একবারও ঠিাকাদার আসেনি। সংশ্লিষ্ট অফিসের সাথে যোগাযোগ করেছি কোন কাজ হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যাপারে আমি জানি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে রেখেছে। কাজ সম্পন্ন করতে সিলেট স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।’

শেয়ার করুন