৩০ অক্টোবর ২০১৮
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি : মানুষ! দিনে দিনে এই মানুষ কেমন জঘন্য হয়ে উঠছে। তা না হলে কি রাস্তার পাগলীর সাথে কেউ গড়ে তুলে শারীরিক সম্পর্ক! আর যার ফলশ্রুতিতে এ সমাজে জন্ম হয় বাবার পরিচয় ছাড়া কোনো অভাগার।
এমনই এক ঘটনা ঘটেছে জকিগঞ্জে। যেখানে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী রোববার বিকেলে জকিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। নাম পরিচয়হীন এ পাগলি সন্তানের মা হলেও বাবা কে তা জানা যায়নি। তবে পাগলীর ছেলে সন্তানটি নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহী বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালেদ আহমদ জানান, রোববার সকাল অনুমান ১১টার সময় এক রিক্সাচালক মানসিক ভারসাম্যহীন অসুস্থ ঐ নারীকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন। ‘অপরিচিত’ লিখে ব্যথার রোগী হিসেবে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। ওয়ার্ডে নেয়ার পর হাসপাতালের সেবিকারা বুঝতে পারেন পাগলীটা প্রসব ব্যথায় কাতরাচ্ছে। প্রায় চারঘন্টা হাসপাতালে সেবা শুশ্রূষার পর বিকেল চারটায় পাগলী একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। শিশু সন্তানটির ওজন কম ও রক্ত শূন্যতা থাকলেও মা ও সন্তান মোটামুটি সুস্থ রয়েছে।
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স হাসিনা বেগম জানান, পাগলিটা তার নাম একেকবার একেকটা বলছে। রেহানা, সুমানা, সুমা বলতে পারলেও সঠিক নাম ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। সে বাংলা ভাষার পাশাপাশি কিছু হিন্দিও বলতে পারে।
ডা. খালেদ আহমদ জানান, পাগলির ছেলে সন্তানটি নেয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা অফিসকে অবগত করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, অভিভাবকত্ব নেয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া গেলে আমরা লিখিতভাবে সমাজসেবা অফিসকে বাচ্চাটি হস্তান্তর করবো।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ দাস জানান, যদি আমরা লিখিতভাবে বাচ্চাটি পাই তাহলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে সিলেট জেলা সমাজসেবা পরিচালিত ‘বেবীহোমে’ রাখা হবে তাকে। সেখান থেকে আদালতের মাধ্যমে একজনের নিকট সমজিয়ে দেয়া হবে নবজাতককে। মানসিক ভারসাম্যহীন পাগলীটাকে জকিগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে ঘুরতে দেখা গেছে। পাগলির মা হওয়াটা ‘টক অব দ্যা জকিগঞ্জ’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।