১৫ অক্টোবর ২০১৮
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : ‘তোমরা আমার জন্য কিছু কর বাবারে, আমি ওষুধ না খেয়া মরমু, মরার আগে একটু শান্তি পাইয়া মরতাম চাই, গরিবের দিকে কেউ চায় না, যুদ্ধ করছিলাম সুখ-শান্তির আশায়। মরার সময় কষ্ট বুকে নিয়া মরমু।’ রোববার তার বাসায় সাক্ষাৎকার নিতে গেলে এ প্রতিবেদককে কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলেন ওসমানীনগরের এক হতদরিদ্র অসহায় ও অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাস (৬২)। মুক্তিযোদ্ধা রাখালের শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। চলাফেরা করার সাধ্য নেই। বিভিন্ন জনের নিকট থেকে সাহায্য আর ধারদেনা করে অপারেশন করিয়েছেন। প্রস্রাবের থলে কেটে ফেলা হয়েছে। মাসে ৮-১০ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়। তিনবেলা দুমুটো খাবার জোগারে যেখানে কোনো সামর্থ্য নেই সেখানে কী করে ওষুধ কিনে খাবেন। বিছানায় শুয়ে শুয়ে দিন-রাত পার করতে হয় তার। স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে তিন সদস্যের সংসার রাখাল চন্দ্রের। মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে মেয়েকে কলেজে পড়াচ্ছেন। সুস্থ থাকতে ভবন নির্মাণের ঠিকাদারি করে কোনোমতে সংসার চালাতেন। বর্তমানে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকায় রোজগার বন্ধ। টাকার অভাবে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন চলছে মুক্তিযোদ্ধা রাখালের।
পার্শ্ববর্তী বালাগঞ্জের চাঁনপুর গ্রামের রসুমনি দাসের ছেলে বাস্তুভিটাহীন রাখাল চন্দ্র দাস দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর ধরে ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউপির সরকারি ভূমিতে বাস করছেন।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে মুক্তি-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়া অকুতোভয় যোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাস স্বাধীনতার পরেও যোগ্য সম্মানটুকু পাচ্ছেন না। সরকারি সনদ আর মাসিক ভাতা নিয়ে বিষয়-বৈভবহীন রাখাল চন্দ্রের জীবনের ইতিমধ্যে ৬২টি বছর কেটে গেছে। যুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য মৌলভীবাজার জেলার ফুলতলা সীমান্ত পেরিয়ে করিমগঞ্জের লোহারবন্দে যান। ৪নং সেক্টরের অধীনে মেজর সাদীর নেতৃত্বে ১২০ জন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তিনি ছিলেন। এখানে মারা যান প্রায় ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা। পাকসেনাদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ৪নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর সিআর দত্ত। ৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় মেজর চিত্তরঞ্জন দত্তের সুপারিশে রাখাল চন্দ্র ঢাকা পিলখানায় বিডিআরে চাকরি পান। কিন্তু ১০ বছর চাকরির পর ১৯৮২ সালে আজানা কারণেই চাকরিচ্যুতি ঘটে। শেষ বয়সে এসে চিকিৎসার অভাবে মরতে বসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাস। সমাজের বিত্তশালীসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান আর সাহায্য কামনা করছেন মুক্তিযোদ্ধা রাখাল চন্দ্র দাস।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান রাখাল চন্দ্র দাসের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব।