১১ অক্টোবর ২০১৮


মানবেতর দিন কাটছে ৩০ হাজার শ্রমিকের

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : ছাতক ও কোম্পানীগঞ্জের পাথর ব্যবাসায়ীদের দ্বন্ধের জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সুরমা ও পিয়াইন নদীতে পাথর বাহী নৌকায় পাথর লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। ছাতকের ব্যবসায়ীরা আড়াই শতাধিক নৌকা আটকিয়ে রাখার অভিযোগ করছেন কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা। এতে মানবেতর দিন কাটছে পাথর কোয়ারীর প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের। বিষয়টির সমাধানে দুই উপজেলার ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন থেকে সুরমা ও পিয়াইন নদী দিয়ে নৌকা চলাচলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন ছাতকের ব্যবসায়ীরা। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পাথার ও বালুবাহী নৌকা চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী এলাকার ব্যবসায়ীদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিলের দাবি, ২০১০ সাল থেকে বর্ষা মৌসুমে পাথর ও বালুবাহী বলগেট, বড় নৌকা ও স্টিল বডি নৌকা কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বিভিন্ন নদী পথে যাতে যাতায়ত না করে এর জন্য বাধা প্রদান করে আসছেন ছাতকের বিভিন্ন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন। ছাতক থানার আমবাড়ি ঘাটে নৌকা আটকিয়ে চাদাঁবাজি তাদের নিত্য নৈমিত্তিক কাজ।

বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের ভেতরে ঢুকে যে সব নৌকা বা বলগেট পাথর বোঝাই করে ভাটির দিকে যায়, সে সব সব নৌকা থেকে অবৈধভাবে চাদাঁ আদায় করছে ছাতকের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। প্রতি জাহাজ, বলগেট ও স্টিল নৌকা থেকে ৫০ হাজার টাকা না দিলে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্যবার।

আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানীগঞ্জের দুটি পাথরভর্তী বলগেট ও প্রায় আড়াইশ খালি নৌকা আটক করে রেখেছেন ছাতকে ব্যবসায়ীরা। এতে নৌকার মালিক ও ব্যবসায়ী শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল জলিল আরো অভিযোগ করেন, ছাতকের পাথর ব্যবসায়ীদের দাবি কোম্পানীগঞ্জ থেকে সরাসরি কোন নৌকা পাথর বোঝাই করে নিয়ে যেতে পারবে না। কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হলে ছাতকের ব্যবসায়ীদের কমিশন দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এই অযৌক্তিক দাবি মানতে বাধ্য করাতে তারা পাথর-বালু লোড-আনলোড বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারী ভোলাগঞ্জে পাথর ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীদের পক্ষে মোঃ আব্দুল জলিল ছাতকের বিভিন্ন সমিতি সমুহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও দুই আসনের এমপিদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। একই সাথে বিষয়টির সমাধানে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অরপরদিকে ছাতক উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল চৌধুরী অভিযোগ করেন, কোম্পানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কোয়ারী এলাকায় ছাতকের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ক্রাসার মিলে ভাংচুর চালিয়েছেন। এজন্য শ্রমিকরা পাথর লোড-আনলোড করছেনা। এতে ব্যবসায়ীদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। জয়নালী চৌধুরী বলেন, সৃষ্ট জটিলতার দ্রæত একটা সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন