৫ অক্টোবর ২০১৮


সিলেটে ৬টি আসন চায় জামায়াত

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নির্বাচনে এবার সারাদেশে শতাধিক আসনে নিজেদের প্রার্থী চাইছে জামায়াতে ইসলাম বাংলাদেশ। তবে ৫০টির মতো আসনে ছাড় পেতে চেষ্টা করবে দলটি। আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে ভোটে ব্যবহারেও নিষেধ করেছে আদালত। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই বিএনপির সমর্থন নিয়ে ভোটে দাঁড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এরমধ্যে সিলেট অঞ্চলের ১৯ আসনের মধ্যে বিএনপির কাছে ৬ টি আসনই চায় জামায়ত।

আসনগুেলো হচ্ছে-

সিলেট-৫ : সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ : মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৩ : সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট-৪: জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, সুনামগঞ্জ-৫ : আব্দুস সালাম আল মাদানী, মৌলভীবাজার-১ : আমিনুল ইসলাম।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর জামায়াত দুটি নির্বাচন একসঙ্গে করেছে, আবার ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনও করেছে একসঙ্গে। আর এবার তারা যত আসনে ছাড় চাইছে জোটবদ্ধ কোনো নির্বাচনেই এত বেশি আসনে ছাড় পায়নি তারা।

সর্বশেষ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির সমর্থনে ৩৫টি আসনে নির্বাচন করেছিল জামায়াত। এতে সিলেটে ২টি আসন জামায়াতকে ছাড় দেয় বিএনপি।

তবে এখন চাপের মুখেও জামায়াত আরও বেশি আসনে ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা করছে দলটি। একশটিরও বেশি আসনে প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। তবে সব আসনে তারা ছাড় পাবে না, এটাও জানেন তারা।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অতীতে আমরা কম আসনে প্রার্থী দিলেও এবার আমরা শতাধিক আসনে নার্সিং করছি। যারা প্রার্থী ছিলেন অতীতে, আগামীতে হতে আগ্রহী তারা পরিস্থিতির আলোকে কাজ করছেন। পরে এখান থেকে যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজকের সিলেটকে বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের প্রতিটি আসনেরই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাজ করছেন। তবে চূড়ান্ত কিছু বলার সময় এখনো হয়নি।

জোটভিত্তিক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আছে জানিয়ে শিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, নির্বাচন তো জোটভিত্তিক করব, এখন পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত। তবে আমাদের প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। আমরা ধানের শীষে নির্বাচন করব না।

সিলেটের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট ৫ ও ৬ আসনে আমরনা জোটের প্রার্থী ছিলাম এই দুই আসন অবশ্যই থাকবে। পাশাপাশী আরো ৪টি আসনে আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনের জন্য কাজ করছেন। সবকিছু নির্ভর করবে জোটের সিদ্ধান্তের উপর।

২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবন্ধ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে জোট থেকে সমর্থন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। আর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটে ২টি আসন জামায়াতকে ছাড় দেয় বিএনপি।

শেয়ার করুন