৩ অক্টোবর ২০১৮
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি পদ কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সিংহ গ্রামের মৃত আমীর হোসেনের ছেলে নূরুল ইসলাম ওরফে শাফি মিয়া ও একই গ্রামের মৃত তপু মিয়ার ছেলে কুদ্দুছ মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সম্প্রতি হিলফুল ফুজুল গ্রাম উন্নয়ন সমিতি নামক একটি সংগঠন এর সভাপতি পদটি গ্রামবাসির একাংশ নূরুল ইসলামকে সভাপতি পদে ঘোষণা দেয়। এর বিরোধীতা করে কুদ্দুস মিয়া ও তার লোকজন। এর পর থেকে নুরুল ইসলাম নিজেকে সভাপতি দাবি রেখে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কোন উপায় না পেয়ে কুদ্দুস মিয়ার বাড়ির উপর দিয়ে চলাচলের রাস্তাটি বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখেন তিনি। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার আটকা পড়ে।
বুধবার সকালে এ নিয়ে নুরুল ইসলামে লোকজন ও কুদ্দুস মিয়ার লোকজনের মধ্যে এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে নারীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
আহতরা হলেন, রাসেল মিয়া (২০), জজ মিয়া (৫৫), জাহির (২৭), জজ মিয়া (৩৭), নূর আলম (২৬), আল আমীন (২৭), জুনাইদ (৩৮), রাশাহীদ (৩৮), তাফসির (১৮), টেনু মিয়া (৩০), বিল্লাল (১৮), নূর আলম (২২), মনিনা খাতুন (২০), শাহীদ মিয়া (৫২), ইকবাল (২৬), মাসুদ (২২), আব্দুল কাইয়ূম (৩৬), সাবাল (২৬), মুন (৪০), সুজন (২৬), ফরিদ (৪২)।
খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার গুরুতর অবস্থায় অন্তত ২০ জনকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হুসেন জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। সেই সাথে পূনরায় সংঘর্ষে এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।