৪ অক্টোবর ২০১৮


একটি সেতুর অভাবে দেড় বছর ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ

শেয়ার করুন

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : মাধবপুরের জগদীশপুর তেমুনিয়া-শাহজিবাজার আভ্যন্তরিন সড়কে মাত্র ১০ মিটারের একটি সেতুর জন্যে দেড় বছর ধরে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়কের যাত্রীরা। দেড় বছরেও সেতুটি নির্মানের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে আরটিআইপি প্রকল্পের অধিনে হবি/আরপিএম-২০৮ প্যাকেজের মাধ্যমে ৬ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার টাকায় জগদীশপুর তেমুনিয়া – শাহজিবাজার এলজিইডি সড়কের মেরামতের কাজ শুরু করে মের্সাস নিলু এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাধারী প্রতিষ্টান । এ প্রকল্পের মধ্যে ছিল বেঙ্গাডুবা ছড়ার উপর ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি পুন নির্মান । প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল। দেড় বছর ধরে সেতুটি ভেঙ্গে রাখা হয়েছে। নির্মানের কোন উদ্যোগ নেই।

নোয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জিতু মিয়া জানান, প্রতিদিন এ সড়কে যাতায়াত করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, নোয়াপাড়া এলাকার একাধিক শিল্প প্রতিষ্টানের লোকজন, গার্মেন্টস শ্রমিকসহ প্রায় ১০ হাজার লোক । অনেকেই নিচ দিয়ে বিকল্প সেতু থেকে পড়ে হাত পা ভেঙ্গেছে , ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে তাদের ভোগান্তির অন্ত নেই। অতি দ্রুত এ সেতুটি নির্মানের দাবী জানান তিনি ।

কড়রা গ্রামের খসরু মিয়া চৌধুরী জানান, বৃষ্টি হলে পাহাড়ি এ ছড়ায় প্রবল স্রোত হয়, ছোট সেতু দিয়ে পানি যেতে পারে না। সেতুটি আরো প্রসস্ত করে নির্মান করা প্রয়োজন।

সিএনজি অটোরিকশা চালক এনু ,আজিজ ও সুজন মিয়া জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখন সিএনজি চলতে দেয়া হয় না। আভ্যন্তরিন এ সড়কটি মাধবপুর উপজেলাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এ সেতুটি ভেঙ্গে রাখার কারনে সিএনজি ,টমটম সহ লোকজন চলাচল করতে পারছে না। সম্প্রতি সিএনজি চালকরা মিলে কাঠ দিয়ে কোন রকম একটি বিকল্প সেতু তৈরী করেছে। সিএনজি ,টমটম পারাপারের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়।

নোয়াপাড়া খাদ্য গোদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল হক জানান, খাদ্য গোদামের সামনের এ সেতুটি ভাঙ্গা থাকায় ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে গোদামে মালামাল পরিবহনে সময় ও সরকারী অর্থ আপচয় হচ্ছে ।

এ বিষয়ে নিলু এন্টার প্রাইজের ম্যনেজার জন্টু জানান, আগে এ সেতুটি ৩ ব্যান্ডের ছিল। উভয় পাশে খাল দখল হওয়ায় বর্তমানে ২ ব্যান্ডের করা হয়েছে। একাধিক বার সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সব ভাসিয়ে নিয়ে যায় । তাই সেতু নির্মানে বিলম্ব হচ্ছে । এখন বৃষ্টি কমেছে। কিছু দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে ।

মাধবপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী বলেন, ঠিকাদারের সাথে কথা হয়েছে কিছু দিনের মধ্যে সেতুর নির্মান কাজ শুরু করবে।

শেয়ার করুন