২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮


কবে চালু হবে টিলাগড়ের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র?

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় নির্মাণের পর ছয় বছর কেটে গেলেও চালু হয়নি সিলেটের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র। নগরীর টিলাগড় ইকোপার্কে নির্মিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটির অবকাঠামো এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। আর কবেইবা এটি চালু হবে, এমন প্রশ্ন দর্শনার্থীদের।

এদিকে, ছয় বছর আগে কেনা বন্যপ্রাণীগুলো রয়ে গেছে গাজীপুর সাফারি পার্কে। এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি তত্ত্বাবধানে ছেড়ে দেয়ার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ। ইজারা দিতে এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

সিলেট বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও নগরবাসীর বিনোদন সুবিধার জন্য নগরীর একেবারে পাশেই গড়ে তোলা হয় টিলাগড় ইকোপার্ক। পার্কের কাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে। পাহাড়-টিলাবেষ্টিত ১১২ একর আয়তনের এ ইকোপার্ক নির্মাণে প্রথম পর্যায়ে ব্যয় হয় ১ কোটি ১৮ লাখ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা।

এরপর ২০১২ সালে সেখানে চিড়িয়াখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরো ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে মাত্র ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাকি টাকা ফিরিয়ে নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

এছাড়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের কাজ শুরুর দিকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হয় বাঘ, জেব্রা, ময়ূর, গোল্ডেন ঈগলসহ বেশ কয়েক প্রজাতির প্রাণী। প্রায় ছয় বছর ধরে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে রয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উন্নয়ন সংক্রান্ত বৈঠকে স্থানীয় এমপি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত জনবল নিয়োগ করে চালু করার তাগিদ দেন। তবে নয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বন বিভাগের সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি চালু করতে চিকিৎসকসহ ২৭ জন কর্মীর প্রয়োজন। নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েও ফল হয়নি। ফলে সম্প্রতি ইজারাদার দিয়ে জনবল নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করেছে বন বিভাগ। গত জুনে এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। ইজারাদার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল দিতে পারলেই চালু হবে এটি।

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, শিগগিরই এটি চালু হবে। এরই মধ্যে ইজারাদারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অনেকগুলো প্রাণীও কিনে রাখা হয়েছে। এটি চালুর সময় আরো নতুন প্রাণী কেনা হবে।

টিলাগড়ের ইকোপার্কে রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছ। এছাড়া প্রায় ৩০ প্রজাতির প্রাণীও আছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে প্রাণীর জন্য ১১টি শেড। রয়েছে প্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্র ও হাসপাতাল। তবে দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে শেডগুলো নষ্ট হতে চলেছে। অরক্ষিত অবস্থায় থাকায় অনেক শেডের সরঞ্জামাদি চুরিও হয়ে যাচ্ছে।

ইকোপার্কের ভেতরে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য পাঁচটি আরসিসি বেঞ্চ, চারটি সেন্ট্রি পোস্ট, পাঁচটি বক্র কালভার্ট, গেস্ট হাউজ ও পানি সরবরাহের জন্য শ্যালো টিউবওয়েল। এছাড়া স্টাফ ব্যারাক, সাইড ড্রেন, টিকিট কাউন্টার, ফিড অ্যান্ড ফুড প্রিজারভেশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সিলেট বন বিভাগের টিলাগড়ের বিট কর্মকর্তা চয়নব্রত চৌধুরী জানান, প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক এখানে আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তাদের অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যায়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হলে পর্যটক আরো বাড়বে।

শেয়ার করুন