১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুরে আলোচিত রেহেনা আক্তার রিমা(৩০) হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উচ্চস্বরে কথা বলায় প্রেমিক শিপন মিয়া তার ২ বন্ধু সহ রিমাকে হত্যা করে লাশ পাশ্ববর্তী একটি জমিতে মাটির নিচে পুতে রাখে।
শনিবার সন্ধ্যায় হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে প্রেমিক শিপন মিয়া হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শাহিনুর আক্তারের খাস কামরায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহাম্মেদ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ঘাতকের আদালতে জবানবন্দির কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
শুক্রবার বিকেলে ঘাতক শিপন মিয়া কে মাধবপুর উপজেলার খাটুরা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে মাধবপুর থানা পুলিশ। উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলানগর গ্রামের একটি জমি থেকে ১৩ জুন সকালে মাধবপুর থানা পুলিশ একটি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে। কিন্তু তাৎক্ষনিক এর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্ত শেষে লাশের পরিচয় ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, উপজেলার শ্রীধরপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আওয়াল মিয়ার স্ত্রী তার বাবার বাড়ি পাশ্ববর্তী রাজাপুর গ্রামে বসবাস করত। মায়ের সঙ্গে অভিমান করে প্রায় ৪ মাস পূর্বে ঢাকার গাজীপুরে একটি গার্মেন্টেসে চাকুরি নেয়। গাজীপুর যাওয়ার পূর্বে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের এক দোকানে পরিচয় হয় পাশ্ববর্তী কমলানগর গ্রামের শাহেদ মিয়ার ছেলে শিপনের সঙ্গে। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৮ জুন রিমা কে ঢাকা থেকে নিয়ে আসার জন্য রিমা শিপন কে ফোন করে । শিপনের গাড়িভাড়া বাবদ বিকাশে ১ হাজার টাকা দেয় রিমা।
টাকা পেয়ে শিপন ঢাকা গিয়ে রিমা কে নিয়ে ৯ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। গভীর রাতে তারা একটি অটোরিক্সা (সিএনজি) যোগে মাধবপুর থেকে শিপনের গ্রামের বাড়ি কমলানগর যায়। সেখানে একটি নির্জন স্থানে প্রেমিকা রিমাকে রেখে তার অপর দুই বন্ধু কে নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে ৩ বন্ধু মিলে রিমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইলে রিমা উচ্চস্বরে কথা বললে প্রেমিক শিপন প্রথমে তাকে গলা চেপে ধরে । শিপনের বন্ধু লাঠি দিয়ে রিমা কে মাথায় আঘাত করে।
এতে রিমা জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। একজন সহযোগী রিমার ওড়না দিয়ে তার হাত, পা বেধে ফেলে। অপরজনক বাড়ি থেকে কোদাল এনে পাশ্ববর্তী শশা জমিতে গর্ত করে রিমার দেহ পুতে রাখে। এর আগে শিপন সহ তার ২ বন্ধু রিমার শরীর থেকে কানের দুল, নাকফুল, হাতের আংটি খুলে নেয়। রিমার ২ টি মোবাইলও তারা নিয়ে যায়। গত ১৩ জুন স্থানীয় লোকজন শশা জমিতে একটি গর্তের ভিতর মানুষের হাত দেখতে পেয়ে পুলিশ কে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে কাশিমনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহ আলম বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকান্ডের পর থেকেই শিপন গা ঢাকা দিয়েছিল। তখন থেকেই পুলিশ শিপন কে সন্দেহের তালিকায় রাখে। পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয় ঘটনার সঙ্গে শিপন জড়িত রয়েছে।
গোপন সুত্রে খবর পেয়ে পুলিশ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার খাটুরা গ্রাম থেকে শিপন কে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল হাসান ঘাতক শিপন কে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শাহিনুর আক্তারের খাস কামরায় হাজির করলে শিপন হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বনর্না করে জবানবন্দি দেয়। মাধবপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম রাজু আহাম্মেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন অপর দুই ঘাতক কে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
এ সময় মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।