১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : গোয়াইনঘাট উপজেলা অভ্যন্তরে দুটি সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি নেমে এসেছে যানবাহন ও পথচারী-পর্যটক চলাচলে। বিশেষ করে জাফলং ও বিছনাকান্দিতে বেড়াতে আসা পর্যটক, দর্শনার্থী আর তাদের বহনকারী যানবাহনকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর থেকে জাফলং, শ্রীপুর, আলুবাগান, নলজুরী, তামাবিল, মোহাম্মদপুর, মামার দোকান হয়ে পর্যটন স্পট বল্লাঘাট ও সিলেট-বঙ্গবীর-হাদারপার সড়কের পীরের বাজার গরুরঘাট, লামারবাজার হয়ে হাদারপার পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার সড়ক।
সড়ক দুটির মোট ২২ কিলোমিটার এলাকা যেন সড়ক নয়, মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সর্বত্রই খানাখন্দ, হাজার হাজার ছোট বড় গর্তে ভরে গেছে। এসব স্থানে প্রায়ই আটকা পড়ছে যাত্রী ও পর্যটকবাহী যানবাহন। দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে আহত, পঙ্গুত্ব এমনকি মৃত্যুবরণ করছেন অনেকেই।
দীর্ঘ দিন ধরে সড়কসমূহের সংস্কার, মেরামত না হওয়াতে জনদুর্ভোগের চরম আকার ধারণ করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের তরফে এসব সড়ক ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট বেহাল অবস্থার সংস্কার, মেরামতের উদ্যোগ চলমান আছে বলে জানালেও এলাকাবাসীর অভিযোগ এসব সড়কসমূহ মেরামতের উদ্যোগ ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলছে খুবই ধীর গতিতে।
সোমবার সকাল ১০টায় হাদারপার বাজারে কথা হয় ঢাকার রামপুরা থেকে আসা পর্যটক আহমেদ সোহেল জনির সাথে। তিনি জানান, এসেছিলাম প্রকৃতি দেখতে কিন্তু সড়কের যে অবস্থা তাতে সমস্ত ভ্রমণ যাত্রাকেই কষ্টসাধ্য করে তুলল। আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলবো বিছনাকান্দি পর্যটন সম্ভাবনাকে অগ্রগামী করতে হলে দ্রুত এখানকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটান। আর নয় তো দ্রুত পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিবে বিছনাকান্দি থেকে।
প্রাইভেটকারযোগে মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা দুই বন্ধু আরাফাত রহমান ও সাইদুল হক জানান, পর্যটনের অপার সম্ভাবনার এই নৈসর্গিক স্থানে আসলে যে কারোরই ভালো লাগবে। তবে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থার যে বেহাল অবস্থা তাতে দেখে মনে হচ্ছে এই ব্যাপারে সরকার অবহিত নয়। আশা করি সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী আশা করি এই দিকে নজর নিবেন।
স্থানীয় ১নং রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, বিছনাকান্দি পর্যটনস্থলসহ এলাকাবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান সড়ক হলো সিলেট-সালুটিকর-বঙ্গবীর-হাদারপার সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সড়কটির সংস্কার, মেরামত না হওয়ায় এলাকাবাসী, পর্যটক ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় প্রতিদিনই সড়কের কোথাও কোথাও দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহন। এতে করে ভোগান্তির অন্ত নেই। আমি বিষয়টির ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মামার বাজারের ফার্মাসিস্ট সুমন আহমদ জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের আমাদের মামার বাজারের অংশে যানবাহন, পথচারী চলাচলে কষ্টের অন্ত নেই। কর্তৃপক্ষে একাধিকবার যোগাযোগ করেও যেন বিষয়টির সমাধানে কোন কার্যত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কথা হলে গোয়াইনঘাটের উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফখরুল ইসলাম জানান, গোয়াইনঘাট একটি বৃষ্টি, বন্যা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগময় উপজেলা। এখানকার অভ্যন্তরীণ সড়কসমূহ সাধারণত ২২ এম থেকে ৪০ এমে স্থাপত্যশৈলীর ভেতরে তৈরি হয়ে থাকে। এসব সড়ক পর্যাপ্ত থিকনেস দিয়ে তৈরির পরও সড়কসমূহের উপর দিয়ে চলে পাথরবাহী ট্রাক-ট্রাক্টর। সড়কের ধারণ ক্ষমতারও বেশি পাথরবাহী ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব গ্রামীণ সড়কসমূহ মেরামতের বছর ঘুরতেই ভেঙ্গে যাচ্ছে। বঙ্গবীর-হাদারপার সড়ক সংস্কারে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ইতিপূর্বে যাবতীয় প্রাক্কলন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আশা করি অচিরেই ব্যবস্থার সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।