৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮


‘নান্দনিক রূপ’ পাচ্ছে ধোপাদীঘি

শেয়ার করুন

অতিথি প্রতিবেদক : নগরবাসীর বিনোদনের কথা চিন্তা করে পরিত্যক্ত ধোপাদীঘিকে নান্দনিক রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ কাজে ব্যয় হবে ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। সিলেটের উন্নয়নের জন্য ভারত এই টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে।

সিসিক প্রকৌশল শাখা জানিয়েছে, ধোপাদীঘির আকার ছোট হবে না। বরং নোংরা দুর্গন্ধময় পরিত্যক্ত এই দীঘিকে নান্দনিক সৌন্দর্য্যে রূপ দেওয়ার জন্য দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। শুধু তাই নয়, দীঘির আশেপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ফলে দীঘির আকার আরও বাড়বে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ঐতিহ্যবাহী ধোপাদিঘীর সৌন্দর্য্য বর্ধন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সিসিক।

জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দীঘির খননকাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীঘির চারদিকে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বসার জন্য থাকবে বেঞ্চ, শিশুদের খেলার জায়গা, পুকুরে নামার জন্য থাকবে দুটি দৃষ্টিনন্দন ঘাট, দীঘির পানিকে পরিষ্কার করার এবং দর্শনার্থীর জন্য থাকবে প্যাডেল বোট, বৃক্ষপ্রেমীদের পরামর্শে সুদৃশ্যভাবে লাগানো হবে সবুজ বৃক্ষ, পুকুরের মাঝে থাকবে নৌকার আদলে ভাসমান রেস্তোরাঁ। সবার জন্য উন্মুক্ত এই জায়গাটির প্রবেশপথ থাকবে সিটি করপোরেশনের মসজিদের উত্তরপাশ দিয়ে এবং মহানগরবাসী সকাল-বিকাল ও সন্ধ্যায় যাতে এখানে এসে হাঁটতে পারেন সেজন্য রাতের বেলা আলোকিতকরণসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

সিসিক প্রকৌশল শাখা জানায়, বর্তমানে ধোপাদীঘিটির আকার অনেক বড় থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে আশেপাশের দোকানপাট গড়ে তোলায় দীঘির জায়গাও অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। এই প্রকল্পের আওতায় এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দীঘির পুরনো অবয়বে ফিরে আনা হচ্ছে।

সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, ভারতীয় সরকার যে তিনটি প্রকল্পে বরাদ্দ দিয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধোপাদীঘির পাড় প্রকল্প। পরিবেশের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েই সব মন্ত্রণালয়ের যাচাই বাছাই করে এই প্রকল্প অনুমোদন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই এলাকার চেহারার আমূল পরিবর্তন হবে।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে আমার একটি স্বপ্ন ছিল সিলেট মহানগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য একটি নির্মল পরিবেশের স্থান গড়ে তোলা। যেখানে নগরবাসী কিছুটা সময় নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে উপভোগ করবেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ধোপাদীঘিকে কেন্দ্র করে এই রকম একটি আবহ তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিনয়ের সঙ্গে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, যে কেউ বর্তমান দীঘিটির করুণ চিত্র গিয়ে দেখে আসতে পারেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দীঘির পানি নোংরা হয়ে গেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীঘিটির পুনরুজ্জীবন হবে।’

শেয়ার করুন