৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮


নগরজুড়ে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া

শেয়ার করুন

কাউসার চৌধুরী (অতিথি প্রতিবেদক) : সিলেট নগরজুড়ে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে গৃহবধূ পর্যন্ত কেউই ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পচ্ছেন না। কেবল মালামাল লুটই নয়, ছিনতাইকারীদের হাতে অনেকের জীবনও চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নগরবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ জানিয়েছেন, আগের তুলনায় ছিনতাইয়ের ঘটনা কমেছে। ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে।

ভুক্তভোগী লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ৮ টায় নগরীর সুবিদবাজার থেকে আম্বরখানা যাওয়ার পথে বাংলাদেশ বেতার ঢাকার বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পরিচালক ড. মীর শাহ আলম ছিনতাইয়ের শিকার হন। সিএনজি অটোরিক্সার যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা তার সাথে থাকা সর্বস্ব লুটে নেয়।

তিনি জানান, ছিনতাইকারীরা তার হাত-পা বেধে ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড নেয়ার চেষ্টা করেছিল। কৌশলে তিন দৌড়ে সরে যাওয়ায় রক্ষা পান। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। গতরাত ১০ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লুট হওয়া কোন কিছু উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।

গত ১৪ আগস্ট নগরীর হাওয়াপাড়ায় নয়াসড়কের ফেম বিউটি ক্লিনিক ও পার্লারের কর্মচারী শাওন বক্স প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে রওয়ানা দেন শাওন। হাওয়াপাড়া মসজিদ মার্কেটের সামনে পৌঁছামাত্র মোটরসাইকেল যোগে আসা ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শাওনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

১৩ আগস্ট রাতে হাউজিং এস্টেট’র ৭ নং লেনে ছিনতাইয়ের শিকার হন মাওলানা এমরান আলম। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা এমরানের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে মোবাইল সেটটি নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। একই দিন সকালে পায়রা সমাজকল্যাণ সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিপন আহমদের বাসার জানালা ভেঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।

২৭ জুলাই সকালে নির্বাচনী প্রশিক্ষণে যাওয়ার পথে স্কুল শিক্ষিকা ছায়েরা বেগম ছিনতাইয়ের শিকার হন। দরগাহ মিরের ময়দান সড়কের সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের সামনে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তবে এখনো ছিনতাইকারীদের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২১ জুলাই সকালে কলেজে যাওয়ার পথে জল্লারপাড় জামতলায় দক্ষিণ সুরমা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক নাজবাহার লাকী ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা অস্ত্র ঠেকিয়ে মোবাইল, টাকাসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

১৩ জুলাই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থীর মোবাইল সেট ও টাকা ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

২ জুলাই সকালে শিবগঞ্জ সেনপাড়ার সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা বিনতে কামাল ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীরা ফাতেমার সাথে থাকা মোবাইল সেট, স্বর্ণের চেইন, আংটি, নগদ টাকা ও চেক বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর আগে ছিনতাইয়ের শিকার গৃহবধূ সালেহা শফিক ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১৭ জুন সকালে মারা যান। মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস ভবনের সামনে ১০ জুন রাত ৯ টায় স্বামীর সাথে উপশহরের বাসায় ফেরার পথে ভ্যানিটি ব্যাগে ঝাপটা দেয় ছিনতাইকারীরা। এতে তিনি সিএনজি অটোরিক্সা থেকে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। রাতেই ৪ ঘণ্টার অপারেশন করেন চিকিৎসকরা। ৮ দিন লাইফ সাপোর্টে থেকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে মোগলাবাজার থকে আটকের কথা জানালেও ঘটনার রহস্য উদঘাটনের কোন খবর জানাতে পারেনি।

এদিকে, সংঘটিত ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে কোতোয়ালী থানা এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী লোকজন নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নজরদারী কামনা করেন। পাশাপাশি ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, আগের তুলনায় সিলেটে ছিনতাইয়ের ঘটনা কমেছে। আগস্টেতো তেমন ঘটনা ঘটেনি। ছিনতাই প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। ছিনতাই নিমুলে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে।

শেয়ার করুন