২ সেপ্টেম্বর ২০১৮


যোগাযোগ ব্যবস্থার কারনে হুমকিরমূখে পর্যটন শিল্প

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি : প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন নগরী সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা। উপজেলা জুড়ে রয়েছে দেশের দৃষ্টিনন্দন পাঁচটি পর্যটনকেন্দ্র। চোখ জুড়ানো এ সব সৌন্দর্য দেখে প্রতিনিয়তই মুগ্ধ হোন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে এসব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে যেমন পর্যটন শিল্পে ঘটছে ব্যাঘাত তেমনি রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

ইতিপূর্বে প্রতিদিন কয়েক শতাধিক পর্যটকের পদচারণায় মূখর থাকতো পর্যটনকেন্দ্রগুলো। ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় দেখে গড়ে উঠে শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক, সিলেট-সারীঘাট-গোয়াইনঘাট-বিছনাকান্দি সড়ক, সিলেট-সালুটিকর-বিছনাকান্দি সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দে ভরা। এ সকল রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে নির্ধারিত স্পটে গাড়ি যেতে পারে না। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছরেরও অধিক সময় থেকে বেহাল দশায় পড়ে থাকা এ সকল রাস্তাগুলো সংস্কার কাজে দায়বদ্ধতা নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ফলে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে ঘুরতে আসা এসব ভ্রমণ পিপাসুদের। এছাড়াও বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরও।

পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ প্রকৃতিকন্যা জাফলং। কিন্তু সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের নলজুড়ি থেকে পর্যটক স্পট জাফলং পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারেরও অধিক পথ যেতে হয় কাঁদা জল মাড়িয়ে। এই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একই অবস্থা আরেক দৃষ্টিনন্দন পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতেও। সিলেট-সালুটিকর-হাদারপার সড়কের বঙ্গবীর হতে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা জুড়েই খানা-খন্দে ভরপুর। এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন জনসাধারণ ও আগত পর্যটক। অপরদিকে, যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা থাকায় রাতারগুল, মায়াবন ও পান্তুমাই মায়াবতী ঝর্ণায় যেতে বিড়ম্বনার শিকার হন ভ্রমণপিপাসুরা।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, নলজুড়ি থেকে বল্লাঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটারেরও অধিক পথ খানা-খন্দে ভরপুর। রাস্তার স্তরে স্তরে জমে থাকা কাদা জল মাড়িয়েই পথচারী ও যানবাহন চলাচল করছে। কিছু কিছু জায়গায় জমে থাকা কাঁদা আর বালির জন্য প্রতিনিয়তই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের ভোগান্তি যেন লেগেই আছে।
ঢাকা থেকে সপরিবারে জাফলং ঘুরতে আসা শাহজাহান ভুইঁয়া জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে জাফলং বেড়াতে এসে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদেরকে বিমোহিত করেছে। তবে, সিলেট থেকে আসার পর রাস্তাঘাট দেখে খুব খারাপ লাগছিলো। রাস্তাঘাটের আরেকটু উন্নতি হলেই এই জাফলং ফিরে পেতো তার আসল সৌন্দর্য।

জাফলংস্থ বল্লাঘাট ক্ষুধা রেস্টুরেন্টর প্রোপ্রাইটর সফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরী জানান, রাস্তাঘাট খারাপ থাকায় গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বিছনাকান্দি জলপরি রেস্টুরেন্টের প্রোপ্রাইটর আনোয়ার হোসেন জানান, আগের তুলনায় এখন ব্যবসা খারাপ হচ্ছে। সমস্যা একটাই, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ। কথা হয় একাধিক জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীর সাথে।

তারা জানান, পর্যটন নগরী গোয়াইনঘাটের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হলে একদিন পর্যটন স্পটগুলো বিলীন হয়ে যাবে। তাই তারা প্রধানমন্ত্রী এবং সেতু ও যোগযোগ মন্ত্রীর কাছে পর্যটন শিল্পকে বাঁচাতে দ্রুত রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জোর দাবি জানান।

(আজকের সিলেট/২ সেপ্টেম্বর/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন