৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : ঈদ শেষ হলেও ঈদের আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি। ঈদের ছুটি ফুরালেও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত। অনেক পর্যটকই শ্রীমঙ্গলের হোটেল-রিসোর্টগুলোর কক্ষ ভাড়া করে থাকার কারণে সেগুলোও ব্যস্ত সময় পার করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বধ্যভূমি ৭১, বিটিআরআই, বাংলাদেশ বন্য প্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, নিলকণ্ঠের ১০ লেয়ার চা, চা-কন্যার ভাস্কর্য, টি রিসোর্ট মিউজিয়াম, বাইক্কাবিল, মণিপুরী পাড়ার হস্তশিল্পের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মাহমুদুল কবির কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এসেছেন। শ্রীমঙ্গলের সবুজ চায়ের বাগান, টিলা, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছেন। তিনি বলেন, এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য যেকোনো মানুষকে বিমোহিত করে। আর এখানে আসার খরচও অনেক কম।
তাহসিন আহমেদ নামের এক পর্যটক বলেন, শ্রীমঙ্গলের পর্যটনকেন্দ্রগুলো সুন্দর হলেও এখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। যেহেতু এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় হয়, তাই রাস্তাঘাটের ব্যাপারে অবশ্যই গুরুত্বারোপ করা উচিত।
শ্রীমঙ্গল ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খালেদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের পরদিন থেকে এখন পর্যন্ত দেশ বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পর্যটকের আগমন হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে দর্শনীয় স্থান ও ভালো মানের হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট থাকার কারণে এখন পর্যটকেরা শ্রীমঙ্গলকেই বেছে নিচ্ছেন।’
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার আহ্বায়ক ও টি হ্যাভেন রিসোর্টের পরিচালক আবু সিদ্দিক মুসা বলেন, ‘ঈদের ছুটির পরও আমাদের শ্রীমঙ্গলের হোটেল-রিসোর্টগুলোতে ভালো পর্যটক আছে। আশা করছি এ রকমভাবে আরও কয়েক দিন যাবে।’
তিনি বলেন, পর্যটকদের জন্য ট্রেন ও বাসের পর্যাপ্ত টিকিট না থাকার কারণে পর্যটকেরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। যেহেতু বিশেষ দিনগুলোতে এখানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ে, তাই সেই সময়ে এখানে বিশেষ যানবাহনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যাতে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। পর্যটকেরা যাতে আনন্দঘন পরিবেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন সে লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।