১৮ আগস্ট ২০১৮
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : আজ ১৮ আগস্ট, ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবস। ১৯৪৯ সালের আজকের এই দিনে নানকার আন্দোলন ও জমিদারী প্রথা’র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেন কৃষকরা। কিন্তু তাদের সেই বিদ্রোহ ভালো চোঁখে নেয় নি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। যার কারণে তারা বিদ্রোহ দমাতে শুরু করে নানা নির্যাতন। আন্দোলন ঠেকাতে জমিদারদের লাঠিয়াল বাহিনীর সাথে ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টের সিপাহীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের উপর।
সেইদিন ইপিআরের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন কৃষক ব্রজনাথ দাস (৫০), কুটুমনি দাস (৪৭), প্রসন্ন কুমার দাস (৫০), পবিত্র কুমার দাস (৪৫) ও অমূল্য কুমার দাস (১৭) নামের ৫ জন কৃষক। একই স্থানে ৩ আগস্ট ১৯৪৯ সালে জমিদারের লাঠিয়ালদের হাতে শহীদ হন কৃষক রজনি দাস। এরপরই জ্বলে উঠে আন্দোলনের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা সিলেটসহ সারাদেশে। ঐতিহাসিক এই নানকার বিদ্রোহের সূতিকাগার ছিল বিয়ানীবাজার থানা। আর কৃষকদের এ আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করেন কমরেড অজয় ভট্টাচার্য্য।
নানকার আন্দোলনের সংগঠক কমরেড অজয় ভট্টাচার্য্য’র লেখা ‘নানকার বিদ্রোহ’ বইয়ে উল্লেখ রয়েছে ‘সে সময় বৃহত্তর সিলেটের ৩০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১০ ভাগ মানুষ ছিলেন নানকার। নানকার প্রথা বৃহত্তর সিলেট জেলায় চালু ছিল। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিষ্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় নানকার আন্দোলন গড়ে ওঠে।
সামন্তবাদী শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার অঞ্চলের নানকার কৃষকরা সর্বপ্রথম বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাকিস্তান সরকারের সাথে বাঙ্গালী জাতির প্রথম বিজয় নানকার বিদ্রোহ আন্দোলন। যা রচিত হয়েছিল সুনাই নদের তীরে। ঐতিহাসিক ঐ স্থানে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড (বিসাক) ২০০৯ সালে শহীদ ছয় কৃষকদের স্মরণে নির্মাণ করে স্মৃতি সৌধ।
আজ ঐতিহাসিক নানকার কৃষক বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক নানকার স্মৃতি বিজড়িত সানেশ্বর-উলুউরি গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে নানকার স্মৃতি সৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পুষ্প শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। পুষ্পার্ঘ্য অর্পন শেষে বিয়ানীবাজার সাংস্কৃতিক কমান্ড এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা। সন্ধ্যা ৭টায় বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ মিলনায়তনে নানকার আন্দোলনের উপর নির্মিত মঞ্চ নাটক ‘হদবেগারি’ প্রদর্শিত হবে। আব্দুল ওয়াদুদের রচনা ও নির্দেশনায় নাটকটিতে উঠে এসেছে জমিদারদের শোষণ নিপীড়নের গল্প।
(আজকের সিলেট/১৮ আগস্ট/ডি/কেআর/ঘ.)