৩ আগস্ট ২০১৮
মুনজের অাহমদ চৌধুরী : শিক্ষার্থীদের অান্দোলনে শ্লোগান অার পোষ্টারের ভাষার সমালোচনা করছেন অনেকে। প্রথমত, এ ত্রুটি সমাজ ও পারিবারিক শিক্ষার, শিক্ষাব্যবস্থারও। যে দেশের পার্লামেন্টে এমপিদের অশ্লীলতা, খিন্তিখেউড় এক্সপাঞ্জ করতে হয়, সেখানে শিশুরা কার কাছে শিখবে? অার দ্বিতীয়ত, অান্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ফটোশপের মাধ্যমে বহু ক্ষেত্রে পোষ্টারের মূল লেখা পাল্টে স্যোশাল মিডিয়ায় পোষ্ট করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
সমালোচনা সবচাইতে সহজ কাজ। শিশুদের অান্দোলনে ক্ষোভের বেদনার প্রকাশের ভাষার সমালোচনা না করে, অামাদের ভাবা উচিত, এ প্রতিবাদের প্রয়োজন কেন অপরিহার্য হয়ে উঠল। যেখানে প্রশিক্ষিত পুলিশ,প্রশাসন দিয়ে সরকার
পারে না সেখানে শিশুরা কিভাবে পারে যানজট নিরসন করতে? অাসলে শিশুদের এ অান্দোলন চোখে অাঙ্গুল দিয়ে বড়দের, বুড়োদের দেখিয়ে দিয়েছে অামাদের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় শুভংকরের ফাকিঁ অার দায়িত্বহীনতার প্রবলতা। দেশ ঠিকভাবে চলছে না। ন্যায়হীনতার প্রতিবাদের সুযোগ পাচ্ছে না নিরাপত্তাহীন জনগন। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ প্রতিবাদ অাসলে মানুষের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরন। এ কারনে কিছুসংখ্যক ক্ষমতার ভৃত্য ছাড়া সারাদেশের মানুষের সমর্থন পাচ্ছে অাজ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের উপর নিপীড়ন চালিয়ে ন্যায়হীন সিষ্টেমের বিরুদ্ধে এ অান্দোলন বন্ধ করা যাবে। অামাদের রাজনীতিবিদরা কথা দেন, কথা না রাখবার জন্য। ছেলে-ভোলানো কথায় অার দফায় শিক্ষার্থীদের বাড়ী ফেরানো যাবে না। শিক্ষার্থীরা জানে, অাজ তারা অান্দোলনে না নামলে নিহত ছাত্রী দিয়া অার রাজিবের লাশের দাম ২০ লাখ টাকা উঠত না।
☝️পরিবহন সেক্টরে সব সরকারের অামলে সরকারী দলের লোকজনের চাদাঁবাজির কাছে জিন্মি পরিবহন শ্রমিকরা। দৈনিক বাসপ্রতি সীমাহীন চাদাঁবাজি অার যানজটের কারনে শ্রমিকরা বেশি ট্রিপ মারতে গিয়ে ওভারটেক, ওভারস্পিড করে। মালিকরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ত্রুটিযুক্ত যানবাহন রাস্তায় নামায়।
এ অান্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে, তোফায়েল অাহমেদের মতো নেতারাও উল্টো রাস্তায় বিএমডাব্লিউ হাকান,খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুলিশের ডিঅাইজির গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক নেই, ড্রাইভারের নেই লাইসেন্স।
☝️বেহায়া মন্ত্রী পদত্যাগ না করে হাসির বদলে কান্নার নাটক করছেন। জেলায় জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডেকে দেশজুড়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে অান্দোলনকারীদের উপর যাত্রীদের ক্ষোভের সৃষ্টি করার চক্রান্ত করছেন। বিভিন্ন স্থানে অান্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলে পড়ছে পুলিশ,সরকার দলের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা। সরকারী নিয়মে, অান্দোলনকারীদের জামায়াত-শিবির বানানোর পায়তারা চলছে। অার দেশের অর্থব ‘অাসল’ বিরোধীদল যথারীতি কাগুজে প্রতিবাদ অার বিবৃতিতে বাইটবাজি করছে ঠগবাজির দেশে।
সরকার এখন অান্দোলনের দফা মেনে নেবার কথা বলে শিশুদের ঘরে ফেরাতে চাইছে। কিন্তু, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর কোন দীর্ঘমেয়াদী অর্থবহ পদক্ষেপের দৃশ্যমানতা অামরা দেখছি না। ইস্যু অাসে, নতুন ইস্যুর নীচে চাপা দিয়ে মারা হয় পুরনো ইস্যু।
সড়ক দুর্ঘটনার নামে সড়কে খুনে নিজের অাইনজীবি পিতাকে হারানো সন্তান অামি। অামাদের প্রধানমন্ত্রী গত ১লা অাগষ্টেও বলেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। জানি, তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছিলেন বলেই পিতৃহত্যার বিচার করেছেন। যারা হতে পারবে না তারা কি কখনো স্বজন হত্যার বিচার পাবে না?
শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে, মারপিট করে, ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো সমাধান নয়। দেশের মানুষ রাষ্ট্রের কাছে মানুষের প্রতি মানবিক অাচরন চান। জনগন চান, রাষ্ট্রের কাছে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা।
(লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক।)