১০ জুলাই ২০১৮


দীর্ঘ ‘বঞ্চনার’ এক শহর বিয়ানীবাজার

শেয়ার করুন

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি : প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বিয়ানীবাজার। ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এই উপজেলার টিলা ও সমতল এলাকায় রয়েছে বিশাল বিশাল আলিশান বাড়ি। তবে লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব বাড়ি নির্মাণ করলেও দেশে ফিরে সেই বাড়িতে থাকার আগ্রহ নেই প্রবাসীদের। পৌর শহরের কাদামাখা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটই যেন তাদের ‘যন্ত্রণা’।

‘বিয়ানীবাজার’ একটি পৌরসভা হলেও মূলত এই শহরের মানুষের রয়েছে বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস। এখনো রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই করুণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ওই এলাকাটি ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও মোটামুটি ভালো ছিল। সময়ের পরিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী বিয়ানীবাজার এখন যেন জল-কাদা আর ময়লা আবর্জনার বাগাড়। চোখে না দেখলে হয়তো কাউকে বিশ্বাসই করানো যাবে না এটি একটি পৌর শহর। অথচ এই উপজেলার ভূমির মূল্য অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে অনেকগুণ বেশি। সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে এই শহরের বাসিন্দারা।

২০০১ সালে ১৮ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনে বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠিত হলেও আইনি জটিলতায় একটানা ১৬ বছর নির্বাচন হয়নি। ছিল না কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও। চিহ্নিত একজন মামলাবাজের খপ্পরে পড়ে পৌরসভা ঘোষণা হলেও ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি পৌরবাসী। একেরপর এক মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল সেই সুযোগ। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। নির্বাচিত করেন বহুল কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধি ‘পৌর মেয়র’।

পৌরবাসীর দাবি, মেয়র নির্বাচনের এক বছর পেরিয়েছে, তবে ভাঙা চোরা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও মানব সৃষ্ট আবর্জনা দূর করার দৃশ্যমান কার্যক্রম এখনো তাদের চোখে পড়েনি।

বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা লায়েক হোসেন জানান, বিয়ানীবাজারের রাস্তায় সব সময় কাদা-জলের বন্যা থাকে। বেশির ভাগ সময় গরু-ছাগল-ভেড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে সবজির উচ্ছিষ্ট-ময়লা খায়। আর বর্ষা হলে তো আর কথাই নেই। রাস্তার অবস্থা হয়ে যায় অনেকটা ভাদ্র মাসের চাষ করা জমির মতো। আছে রাস্তাভর্তি ময়লা আবর্জনা। যানবাহন চলার সময় মানুষ পথ ছেড়ে দৌড়ে গিয়ে দূরে দাঁড়ায়। ঠিক যেন হঠাৎ পাগলা কুকুর দেখে পালাচ্ছে। প্রবাসীর শহর বিয়ানিবাজারের এমন দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায়।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাঈদ আহমদ জানান, বিয়ানীবাজার শুধু সিলেট বিভাগের নয়, বিশ্বজুড়ে এর নাম রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অনেক দেশে বিয়ানীবাজারের বাসিন্দারা থাকেন।

তিনি আরও জানান, স্কুল হলিডের সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি আসেন তিনি। তবে রাস্তাঘাটের কারণে তার স্ত্রী-সন্তান দেশে আসতে চায় না।

এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস শুকুর শোনালেন আশার বাণী।

তিনি বলেন, ‘এটি নামেই পৌরসভা ছিল। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর মাত্র এক বছর সময় পেয়েছি। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্বাচনী এলাকার পৌর শহর এটি। তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অনেকগুলো প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ময়লা আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশনসহ রাস্তাঘাটের উন্নয়ন খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে। তবে একটু সময় লাগবে।’

(আজকের সিলেট/১০ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন