১৪ জুলাই ২০১৮
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের ধুলিয়াখাল-মিরপুর ও ধুলিয়াখাল-কটিয়াদি সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কে সৃষ্টি হওয়া ছোট ছোট খানাখন্দগুলো এখন বড় বড় গর্তে পরিণত হচ্ছে। ফলে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের ২০টি গ্রামের প্রায় দুই লাখ মানুষ। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে অচিরেই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সূত্র মতে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কটিয়াদী ও বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকাসহ আশপাশের গ্রামগুলোর হাজার হাজার মানুষ ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করেন। উপজেলার মশাজান, আব্দাবকাই, ডেমেস্বর, হাতিরথান, চানপুর, রঘুদয়াল, আউশপাড়া, ধোপাখাল, সুলতানশী, হামিদপুর-শরীফপুর, তারাপাশা, যমুনাবাদ, বনদক্ষিন, তেঘরিয়া, গোপায়া ও নন্দনপুর, কাজীহাটা, তারাপাশা, ভাতকাটিয়া, বাড়িগ্রাম, লামাতাসি, ভাদেশ্বরসহ বাহুবল উপজেলার স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কটি।
প্রায় ১০ কিলোমিটারের এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত যান বাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় দুর্ভোগ ছাড়ছে না এলাকাবাসীর। প্রায় প্রতিনিয়তই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেক সময় দেখা যায়, সিএনজি, মিনি ট্রাক ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) উল্টে গিয়ে আহত হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ছোট ছোট গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ— দীর্ঘদিন যাবত সড়কটিতে সংস্কার কাজ না হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি এলাকাবাসী সড়কটি মেরামতের জন্য হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদনও করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের দাবি করেছেন তারা।
হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ছাত্র সুজন রায়হান জানান, দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের ইট উঠে গিয়ে ছোট ছোট গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।সুজন রায়হান বলেন, ‘বিশেষ করে কলেজে আসা-যাওয়ার সময় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছি আমরা।’
স্থানীয় সংবাদকর্মী দিদার এলাহী সাজু জানান, ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, সড়কের বড় বড় খানাখন্দ থাকায় যাতায়াতে অনেক বেশি সময় লাগে।
সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী সিএনজি অটোরিকশাচালক মামুন মিয়া জানান, প্রতিদিন তাদের ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সড়কে শতাধিক খানাখন্দ থাকার কারণে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় গর্তের মধ্যে সিএনজি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনায় আহতও হয়েছে।’
ট্রাক চালক আপন মিয়া জানান, প্রায় দুবছর যাবত এ সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও সংষ্কারের কোনও ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চালকরা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় গর্তগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকে। এতে করে গাড়ি উল্টে অনেক দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটলেও রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রাস্তা সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় লস্করপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান হিরো জানান, ধুলিয়াখাল-মিরপুর ও ধুলিয়াখাল-কটিয়াদি সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। অনেক সময় সিএনজি ও টমটম উল্টে দুর্ঘটনার খরব পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, অচিরেই সড়কটি মেরামতের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক বলেন, ‘মিরপুর- ধুলিয়াখাল সড়কটির অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা আছে। সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সড়কটি মেরামত করা হবে।’
হবিগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তারাও অবগত রয়েছেন। তবে অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ার কারণে এখন আর এ সড়কে কাজ করা সম্ভব নয়। আগামী অর্থবছরের শুরুতে সড়কটিতে মেরামতের কাজ শুরু করা হতে পারে।
(আজকের সিলেট/১৪ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)