৯ জুলাই ২০১৮


২০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী, বেকায়দায় আরিফ

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ও দলের অন্তঃকোন্দল মেটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নিজ দলীয় বিদ্রোহী ও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচনে অনঢ় থাকায় বেশ ‘বেকায়দা’ পড়েছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।

অপরদিকে, বাহ্যিকভাবে আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় বেশ সুবিধাজন অবস্থানে রয়েছেন দলটির সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

সিসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২০ দলীয় জোট প্রার্থী নিয়ে নানা ধরনের নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমসহ ৫ নেতা বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী ছিলেন। তারা জোটবেঁধে আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশও করেন।

এ কারণে রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হলে সিলেটের বিষয়টি ঝুলে যায়।

তবে অনেক জল্পনা-কল্পনার পর যদিও আরিফুল হক চৌধুরীকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর আগে পর্দার অন্তরালে সিলেটে ও লন্ডনে বহু ‘খেলা’ হয়েছে।

দলীয় মনোনয়ন পেলেও আরিফ পার করছেন কঠিন পথ। দলের ভেতরে-বাইরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে।

দলের একটি বড় অংশ আরিফুল হকের কর্মকাণ্ডে নাখোশ। দলে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে আরিফের বাসায় সম্প্রতি একটি গোপন বৈঠকও হয়েছে।

বৈঠকে শীর্ষ নেতারা ঐক্যের বার্তা দিলেও এখনো এক হতে পারেনি বিএনপি। খোদ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম আরিফের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বদরুজ্জামান সেলিম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ৩৯ বছরের রাজনীতিতে তিনি কখনই কথার বরখেলাপ করেননি। প্রার্থী হয়েছেন, প্রার্থী থাকবেন। তিনি বিজয়ী হয়ে সিলেটে গড়বেন নারায়ণগঞ্জের আইভী রহমানের ইতিহাস।

শুধু দলই নয়; জোটের অন্যতম শরীক দল জামায়াতও মেয়র প্রার্থী দিয়েছেন। মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রার্থী হয়েছেন।

এ ব্যাপারে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে তাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে তিনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না বলেও জানান।

এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ‍সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আরিফুলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সাবেক মেয়র ও নৌকার মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।

আপাতত কামরানকে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধীতার মুখে পড়তে হচ্ছে না। আরিফুল হকের মতো কামরানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তারই দলের সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন। কিন্তু কামরানকে নৌকার প্রার্থী ঘোষণার পর পরই তার সঙ্গে সমান তালে মনোনয়ন চাওয়া অন্যরা এক কাতারে চলে এসেছেন। তবে কামরান অনুসারীদের শঙ্কা কাটছে না। ২০১৩ সালের নির্বাচনে দলীয় অনৈক্যই কামরানকে ডুবিয়ে ছিল।

এবার দলে প্রকাশ্যে কোনো বিরোধ না থাকলেও অন্তর্দ্বন্দ্ব যে নেই, এমনটা বলা যাচ্ছে না বলে দাবি কামরান অনুসারীদের।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান জানান, সিলেটের মানুষের কাছে তিনি ঋণী। এই নগরের মানুষ তাকে যে ঋণের জালে আবদ্ধ করেছেন তা কখনই ভোলার নয়। দলে ঐক্য আছে। এখন প্রিয় নগরবাসীর রায়ের অপেক্ষা।

কামরান আশাবাদী মহানগরবাসী আগের মতো তার ওপরেই আস্তা রাখবেন।

বিএনপির প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর ব্যাপারে জোট যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই আমি মেনে নেব।

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

উল্লেখ্য, সিসিক নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ৩০ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্টিত হবে।

(আজকের সিলেট/৯ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)

শেয়ার করুন