৪ জুলাই ২০১৮
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাইনদীর খনন এবং স্থায়ী বাধ নির্মানের মাধ্যমে বন্যার স্থায়ী সমাধানের দাবীতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছে মৌলভীবাজারবাসী।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সামনে মনু ও ধলাই নদী পাড়ের জনগোষ্ঠির বন্যারে এই অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্টিত হয়। মৌলভীবাজারের সর্বস্থরের জনসাধারণের পাশাপাশি এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা বলেন, এ বছর বন্যায় এত আতংক ছড়িয়েছে যে আমরা ঈদ করতে পারিনি আতংকে। বারবার মৌলভীবাজার বন্যায় আক্রান্ত হলেও নেই স্থায়ী সমাধামের কোন উদ্যোগ আমরা এর থেকে মুক্তি চাই। অবিলম্বে মনু ও ধলাই নদী খননের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে এবং নদ নদীর প্রতিরক্ষা বাধকে স্থায়ী ভাবে মেরামত করতে হবে।
মনু বাঁচাও, ধলাই বাঁচাও, বাঁচাও প্রতিবেশ স্লোগান নিয় বক্তারা আরো বলেন , আমরা বন্যা সমস্যা সমাধানে জোড়াতালি নয় স্থায়ী সমাধান চাই। প্রতিবছরই মনুর আগ্রাসী রূপ দেখেছে মানুষ। প্রতি বছর বর্ষাতে আমাদের এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা এই সমস্যায় আর থাকতে চাই না। বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।
এর আগে বিগত কয়েকদিন ধরেই জেলার সর্বসাধারণের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ করে জনমত গঠন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচীকে ঘিরে প্রচার চালায় কয়েক হাজার তরুন তরুণী। প্রবাসীরা উপস্থিত না থাকতে পারলেও ইংল্যান্ড, কানাডা আমেরিকাসহ বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রচারে কার্যকরী ভুমিকা রাখেন।ম
এই আন্দোলনের সমন্নয়কারীদের একজন আব্দুর রব জানান, নিজের দ্বায়িত্ব বোধ থেকে আমরা এই কর্মসূচি দিয়েছি, আমাদের জেলা আমাদের শহরকে নিরাপদ রাখতে সরকারের উচ্চমহলের দৃষ্টি কামনা করছি।
অবস্থান কর্মসূচী উপলক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই অবস্থান নেয় সাধারণ মানুষ। এ সময় বিভিন্ন ফেস্টুন বহন করতে দেখা গেছে। ফেস্টুনগুলোর স্লোগান হচ্ছে, বন্যা থেকে বাচতে হলে নদী, খাল জলাশয় খনন করতে হবে, মনু ও ধলাই নদী বাচাও, শহররে রক্ষা করতে হলে মনু ও ধলাই নদীর পাশাপাশী গোপলা নদী খনন করতে হবে।
কর্মসূচিতে মনু ও ধলাই নদী খনন এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং জেলার অন্যান্য নদ-নদী ও হাওরের ভরাট বিলসমূহ খননের জোড়াল দাবী তুলা হয়।
এর পরপর মৌলভীবাজার জেলা প্রসাশকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপির মাধ্যমে দাবিদাওয়া পূরণের আহবান জানানো হয়।
(আজকের সিলেট/৪ জুলাই/ডি/এসসি/ঘ.)