২৯ জুন ২০১৮
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : কাজের অভাবে এলাকা ও দেশ ছেড়ে যেতে হয় বলে খেদ প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকরা। কর্ম সংকটের কথা জানিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার তীরবর্তী ফেনারবাঁক গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক শামীম চৌধুরী বলেন, ‘বাইশা মাসো হাত-পাঁও বাইন্দা ঘরো বইয়া থাকন লাগে, কোনও কামকাজ নাই, এর লাইগা আমরা বিদেশ করি।’
একই গ্রামের সচ্ছল কৃষক হাজী নরুল হুদা চৌধুরী জানান, বৈশাখ মাসের পর হাওর এলাকায় কোনও কাজ থাকে না। কৃষকরা যা ধান পেয়েছিলেন তা বিক্রি করে দিয়ে মহাজনের দেনা পরিশোধ করেছেন। এখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে তারা আবার শহরমুখী হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার চারদিকে পাকনার হাওর বেষ্টিত ফেনারবাঁক গ্রাম। পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও মধ্যপাড়াসহ পৃথক তিনটি পাড়ায় বিভক্ত গ্রামটি। বর্ষার শুরুতে আষাঢ় মাসে বসতবাড়ির সামনে-পেছনে আছড়ে পড়ে পাকনার হাওরের উত্তাল ঢেউ। গ্রামের সামনে থেকে পেছনে তাকালে হাওরের বিশাল জলরাশি আর মাছ ধরার দুই একটা ছোট নৌকা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি।
জানা যায়, এবছর বোরোর বাম্পার ফসল হলেও পাকনার হাওর তীরবর্তী ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ফেনারবাঁক, লক্ষ্মীপুর, শান্তিপুর, ভেদারপুর, বিজয়নগর,পশ্চিম ফেনারবাঁক, রাজাপুর, উদয়পুর, নাজিমনগর, হটামারাসহ ১০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে বাম্পার ফলনের কোনও উচ্ছ্বাস নেই। হাওরের বিশাল জলরাশি আর এসব গ্রামের মানুষের চোখের জলধারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরপর দুইবার আগাম বন্যার কারণে ফসলহানির পর এবছরও তারা বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েন। কারণ হাওরের পানি দেরিতে নিষ্কাষণের ফলে তাদের ধানের চারাগাছগুলো বীজতলাতেই পেকে যায়। এছাড়া বিলম্বে ধান রোপণের কারণে তাদের জমিতে ফসল উৎপাদনের ক্ষমতাও অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। এক হাল (১২ কেয়ার) জমি চাষাবাদ করতে ৩৬ হাজার টাকা খরচ হলেও ধান পেয়েছেন মাত্র ৬০ থেকে ৭০ মণ, যা বিক্রি করে চাষাবাদের খরচের টাকাই ওঠেনি। অথচ স্বাভাবিকভাবে ধান উৎপাদন হলে প্রতি হাল জমিতে দেড়শ’ থেকে দুইশ’ মণ ধান উৎপাদন হওয়ার কথা। যে ধানটুকু তারা পেয়েছিলেন তাও অতিবৃষ্টির কারণে শুকোতে পারেননি। ফলে ধানের রঙ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মাত্র চারশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা দরে ধান বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধ করে তাদের ভাড়ার শূন্য হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হাওরে বেকারত্ব ও কর্মসংকট দূর করতে হলে নেট পদ্ধতিতে মাছ চাষের ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে। কারণ, প্লাবন ভূমিতেও এখন উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ করা যায়। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।’
(আজকের সিলেট/২৯ জুন/ডি/এসসি/ঘ.)