২৪ জুন ২০১৮


বিশ্বকাপ আনন্দে ভাসছে দেশ

শেয়ার করুন

মিছবাহ জামাল : ঈদের খুশি শেষে এসেছে বিশ^কাপ ফুটবল দেখার আনন্দ ও খুশি। বিশ^কাপ জয়টা একটা স্বপ্নের মত, অনেক ভক্ত দর্শকদের মনে কাজ করছে। ভক্তদের ভাবনা, তাদের পছন্দের দল এবার বিশ^কাপ জয় করবে। বাংলাদেশ দু’টি ভাগে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশ^কাপটা এবার কার হাতে যাবে, তাই হচ্ছে আলোচনার প্রধান বিষয়। সিলেটে ভক্ত দর্শকদের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা মিছিল করতে দেখেছি। দেখিনি ইংল্যান্ডের পতাকা হাতে। বলাবাহুল্য ইংল্যান্ডে অর্থাৎ যুক্তরাজ্যে এই সিলেট অঞ্চলের প্রায় ৯৫% ভাগ লোক বসবাস করেন।
ফুটবল ওয়াল্ডকাপ ঘিরে দেশে দেশে ভক্ত ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও আগ্রহের সীমা নেই। হাজার হাজার মাইল দূরের খেলাগুলো টিভিতে দেখার আপেক্ষায় প্রতিদিনই বসে থাকেন বিশে^র কোটি কোটি মানুষ। প্রিয় দলের জার্সি ও প্রিয় দলের পতাকা নিয়ে আনন্দে উল্লাসে থাকেন ভক্ত ও সমর্থকরা। ব্রাজিল, আজেন্টিনা, জার্মানী, ফ্রান্স, স্পেন্স, ইংল্যান্ড, পুর্তগাল, উরুগুয়ে, বেলজিয়াম মেক্সিকোর মত শক্তিশালী টিম প্রায় প্রতিবারই দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়াটার ফাইনাল/ সেমি ফাইনাল পর্যন্ত খেলে দু’টি দল ফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু সেই দু’টি দলের অপেক্ষায় থাকেন ভক্ত-সমর্থকগণ।
অনেক সময় দেখা যায়, এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, যুক্তিতর্ক, ঝগড়া-মন্যমালিন্য, এমনকি ক্যাফে, চায়ের দোকান, বার, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি এমনকি বাসাবাড়িতেও বিশ^কাপে তাদের দেশ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে আলোচনা হয়। বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা ক্লাবে সর্বত্র প্রতিদিনই বাড়ছে পতাকা কেনা-বেচার পালা। ছোট-বড় মার্কেট, রাস্তাঘাট, ছোট ছোট দোকানগুলোতে ভিন দেশী পতাকা আর প্রিয় খেলোয়াড়দের পোষাক। ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবলের কারণে ফেইসবুকে ইতিমধ্যে হাজার হাজার গ্রুপ আর পেইজ ওপেন করেছে বিভিন্ন দেশের ভক্ত-সমর্থকরা। পেইজগুলোতে নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, পোস্ট করা হচ্ছে বিভিন্ন ছবি। ওয়ার্ল্ডকাপ শুরুর আগেই এমন প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল বাংলাদেশেও। শুধু তাই নয়, এলাকায় এলাকায় বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে কমিটিও গঠন করতে শোনা গেছে। সমর্থক গোষ্ঠী পুরো বিশ^ব্যাপী একই অবস্থা। যে যেমন করে পারছে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবারো অনেকে বিশ^কাপ খেলা উপলক্ষে কিনেছেন নতুন নতুন টিভি। অনেকের মধ্যে দেখা যায়, নিজের দেশের টিম না খেললেও অন্য দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। ফেভারিট খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাসি, নেইমার, ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ড, সুয়েরেজ, সালাহউদ্দিন সহ প্রিয় খেলোয়াড়দের খেলা দেখে অনেকে আনন্দে আত্মহারা হন।
প্রিয় দল জিততে না পারার হতাশায় অনেককে উত্তেজিত হয়ে হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রাণ হারাতে শোনা যায়। এখানেই আমার একটি আহবান ভক্তদের প্রতি। জীবনকে বাজি রেখে খেলা দেখতে গিয়ে মানসিক কষ্টভোগ করবেন না। অথবা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলা দেখতে মনোনিবেশ করবেন না। বলা বাহুল্য, ঠান্ডা মাথায় ফুটবল খেলা উপভোগ করা যায় না ঠিকই, অবশ্য উত্তেজনার মাত্র যেন ঠিক থাকে।
বিশেষ করে বাংলাদেশী দর্শক ভাইবোন ও ভক্তদের প্রতি অনুরোধ, তৃতীয় বাংলা বলে খ্যাত লন্ডন বাংলা টাউন বা ইংল্যান্ডে আমরা বসবাস করি। এই ইউকে-তেই প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বাঙালি বসবাস করেন। এমনকি বিশে^ ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউএসএ, কানাডা সহ বিশে^র যে যেখানেই আমরা বাংলাদেশীরা আছি, আসুন এবার একটি নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে ফুটবল প্রিয় দর্শকরা ইংল্যান্ডকে সাপোর্ট করি।
বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায়, শত শত গজ কাপড় কেটে কিংবা ব্যানার দিয়ে পোস্টার, ফেস্টুন দিয়ে ব্রাজিল, আজেন্টিনা, জার্মানী, পুর্তুগালকে সাপোট করতে। কিন্তু আমরা কি ইংল্যান্ড দলের পাশে সেই সাপোর্ট নিয়ে দাঁড়াতে পারিনা? তাই আসুন অনন্ত এবারের বিশ^কাপে আমরা বাংলাদেশে শত শত গজ কাপড় কেটে ইংল্যান্ডের পতাকা নিয়ে ইংল্যান্ডের পাশে দাঁড়াই। কারণ আমাদের প্রজন্মরা ইংল্যান্ডে আছে, ইংল্যান্ডেই থাকবে।
পরিশেষে বিশ^কাপ ক্রিকেটের মতো বিশ^কাপ ফুটবলে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে পেলে আমাদের প্রজন্মরা বিশে^র বুকে বিশ^কাপ ক্রিকেটের সময় যেভাবে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে গর্ব বা সম্মান বোধ করে বিশ^কাপ ফুটবলেও এমনি বোধ করবে।

(লেখক :সাংবাদিক, রেডিও-টিভি ব্যক্তিত্ব।)

শেয়ার করুন