১৯ জুন ২০১৮


মৌলভীবাজারে প্রশাসনের অবহেলায় বাড়ছে দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারে মনু নদের পানি কমছে দ্রুত। মনু নদের পানি বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার থেকে কমে ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু বন্যা কবলিত এলাকায় কমছে না দুর্ভোগ। বন্যার্তদের দুর্ভোগ বাড়ার জন্যে সরকারী কর্মকর্তাদের উদাসিনতাকে দায়ী করেছেন অনেকে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা: মো: আবু জাহের জানিয়েছেন বন্যাদুর্গত এলাকায় ৭৪ টি মেডিকেল টিম গঠিন করা হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কোথাও কোন মেডিকেল টিমের দেখা পাননি তারা।

৭৪ টি টিমের কয়টি টিম চিকিৎসকসহ জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, ৭ উপজেলায় ৭ টি।

এ ব্যপারে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের আজিজুর রহমান বুলু জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছি কিন্তু গত ৬ দিনে কোথাও কোন মেডিকেল টিম দেখিনি।

রাজনগর উপজেলার আশ্রাকাপন গ্রামের বন্যাকবলিত গ্রামের ছাইদুল ইসলাম জানান, মেডিকেল টিমের কথা শুনেছি তবে বাস্তবে দেখিনি।

এদিকে, চাহিদার তুলনায় ত্রান কম পাচ্ছে বন্যার্তরা। অপরদিকে,অবহেলায় নষ্ট হচ্ছেত্রান। মৌলভীবাজার পৌরশহরে শহর প্রতিরক্ষা বাধ ভেংগে পানি প্রবেশ করায় খাদ্য গুদামের ৫৫০ টন চাল গম পানিতে ভিজে যায়। এজন্য খাদ্য কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন অনেকে। তাদের দাবি, পানি প্রবেশ করার ৪ দিন আগে থেকেই সারা শহরে মানুষ সতর্ক ছিলো। ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু জেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ মো. সাখাওয়াত হোসেন ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তার মনোজ কান্তি দাস চৌধুরী এ ব্যাপারে তৎপর না হওয়ায় আড়াই কোটি টাকার চাল ও গম জলে যায়। ২ দিন আগেই মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম তাদেরকে এ ব্যপারে সতর্ক করেছিলেন বলেও জানা গেছে।

জেলা প্রশাসকের হিসেবে, বন্যায় জেলায় আউশ ধান নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ৯৬০ হেক্টর। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শাহাজান জানিয়েছেন ১৫০০ হেক্টর।

জেলা বিভিন্ন স্কুলে ৬০ টির মত আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

সরকারী হিসেবে জেলায় প্রায় ২ লাখ লোক পানিবন্দি। জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও সিভিল সার্জন ডা: মো: আবু জাহের জানিয়েছেন, তারা ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিলি করেছেন। মজুদ আছে আরো ৬ হাজার। ২ লাখ লোকের পানির চাহিদায় যা অপ্রতুল। বারবার সতর্ক করা হলেও সরকারের কাছে তারা কোন চাহিদাপত্র পাঠাননি বলে জানা গেছে।

সরজমিনে জেলার কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলা ঘুরে অন্তত ২০ জন বন্যা কবলিত মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউই পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট পাননি।
রাজগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের প্রেমনগর গ্রামের দুলু মিয়া ও মুহিত মিয়া জানান, তারা বাধ্য বন্যার পানি খাচ্ছেন।

সরকারী কর্মকর্তাদের এমন অবহেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম বলেন, সরকারী কর্মকর্তাদের এমন আচরণ বন্যাপ্লাবিত এলাকার মানুষের সাথে উপহাস যা ক্ষমার অযোগ্য।

সরকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন খোদ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়াও।

সোমবার মৌলভীবাজারে তিনি জরুরী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সভায় একে একে বন্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাজ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে এবং কাজের বিবরণ শুনে উম্মা প্রকাশ করেন। যারা দ্বায়িত্ব অবহেলা করেছেন তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা যা চাইবেন তার দিগুণ দেব তবে ঘরে না বসে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আপনাদের অবহেলায় মানুষ কেন কষ্ট পাবে?

এদিকে নদীর পানি কমতে থাকায় পৌর শহরের প্লাবিত হওয়া অংশ থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩ টি উপজেলার সাথে স্বাভাবিক হয়েছে সড়ক যোগাযোগ তবে কমলগঞ্জ উপজেলা এবং সিলেটের সাথে সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

তবে মৌলভীবাজার শহর থেকে পানি কমলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সদর উপজেলার আমতৈল ও নাজিরাবাদ ইউনিয়নের কিছু অংশ।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী পার্থ জানান, পানি যে গতিতে কমছে তাতে আশাবাদী খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

(আজকের সিলেট/১৯ জুন/ডি/কেআর/ঘ.)

শেয়ার করুন