২৫ মে ২০১৮
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ফয়সল আহমদ(৩০) উপজেলার নোয়াই দক্ষিণভাগ চক গ্রামের মৃত গৌস মিয়ার ২য় ছেলে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা বৃহস্পতিবার রাতেই ঘাতক সুরুক মিয়া(৩৫)কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
শুক্রবার বিকেল ৬টার দিকে ফয়সলের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গাড়ির আওয়াজ শুনে কান্নার রুল পড়ে সারা বাড়িতে। নিহতের স্বজনরা দৌঁড়ে এসে গাড়িটি ঘিরে ধরে বিলাপ করতে থাকেন ‘ফয়সল খইরে, আমরারে এখবারতা ফয়সলর মুকখান দেখাওরে।’ স্বজনদের এমন আহাজারীতে ভারী ওঠে সেখানকার আকাশ।
পিতার শোকে বাকরুদ্ধ দুই শিশু রুমাইয়া (৯) ও নজরুল (৭)। কারো সাথে কোন কথা নেই, চোখে জল নেই, শুধু নির্বাক চেয়ে আছে সবার দিকে। বাবার জন্য কাঁদার শেষ অশ্র“টুকুও যেনো শুকিয়ে গেছে তাদের। অন্যদের দেখা-দেখি চোখের জল ফেলছে ফয়সলের তৃতীয় সন্তান ফখরুল (৩)। বাবা না ফেরার দেশে চলে গেছে, আর কোনোদিনও বাবার সাথে তার দেখা হবে না, সে সম্পর্কে কোন ধারণাই নেই ফখরুলের। তারমতো নির্বোধ কান্নায় ‘বা’ বলে বলে ডাকছে ফয়সলের ৫ মাসের সন্তান মারজান। মারজানকে কোলে নিয়ে কাঁদছেন নিহতের চাচাত্ব ভাই সাদিক আহমেদ। তিনি জানালেন, মারজান তার বাবাকে ডাকার সময় ‘বা’ বলে ডাকে। সে এখন তার বাবাকেই খোঁজছে। উপস্থিত স্বজনদের কান্নার মাত্রাটা আরও বাড়িয়ে দিল মারজানের ‘বা’ ডাকটি।
এদিকে ৪ সন্তানের জনক ফয়সলের এভাবে চলে যাওয়াটা যেনো মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা। ‘ফয়সলকে অকালে কেড়ে নিয়ে তার সন্তানদের যে এতিম করে দিয়েছে, তার যেনো ফাঁসি হয়’ ক্ষোভের সাথে এমন দাবি করেন মো. মাঈন উদ্দিন নামের নিহতের এক প্রতিবেশী। তিনি বলেন, অবুঝ এই শিশুরা এখনও জানতে পারেনি তাদের বাবা কোথায়?
অবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফয়সলের জানাজার নামাযের পর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ফয়সল’র উপর হামলার কারণ জানতে চেয়ে উপস্থিত জনতাকে প্রশ্ন করলে তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। কেউ কেউ আবার ‘আমাদের জানা নেই’ বলে কেটে পড়েন। তবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন সবাই।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সকাল অনুমান ১১টার দিকে স্থানীয় কমলগঞ্জ বাজারে আজিজুর রহমানের মালিকানাধীন তান্নি টেলিকম নামীয় দোকানের সামনে সুরুকের হামলার শিকার হন ফয়সল। এ সময় ঘাতক সুরুক দা দিয়ে ফয়সলের মাথায়, ঘাড়ে ও ডান হাতের উপরিভাগে কুপ দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিন ফয়সলের স্ত্রী সুনারা বেগম বাদি হয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সেই অভিযোগটিকে হত্যামামলা হিসেবে আমলে নেওয়া হয়।
এব্যাপারে জানতে চাইলে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ. এক এম ফজলুল হক শিবলী জানান, প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ফয়সল’র মৃত্যু সংবাদ আমরা পেয়েছি। ঘাতক সুরুক মিয়াকে স্থানীয় জনতা আটক করে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে সে থানা হাজতে আছে মর্মে তিনি নিশ্চিত করেন।
(আজকের সিলেট/২৫ মে/ডি/একে/এসটি/ঘ.)