১৮ মে ২০১৮


পানিতে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

শেয়ার করুন

জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : জামালগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসমে ইরি বোরো পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যে কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও কাল বৈশাখী ঝড়ের কবলে পুতে গেছে ইরি বোরো ধান। যে কারণে পানিতে ভাসছে কৃষকের সোনালী পাকা ধানের স্বপ্ন। পুতে যাওয়া ধান কাটার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। আবার শ্রমিক পাওয়া গেলেও কৃষককে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ মূল্য। এ বছর ধীর গতিতে পানি নিষ্কাশন হওয়ায় চারার বয়স বেশী হওয়ার কারণে বিঘা প্রতি ৪-৫-মণ হারে ধানের ফলন কম হবে বলে আশংকা করছেন এলাকার কৃষকরা।

জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় পূর্বের বছর গুলোতে এই সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ করে টাঙ্গাইল ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল, দিনাজপুর, সহ ধান কাটার শ্রমিকরা এলাকা গুলোতে আসত। এখন তারা নিজেরাই স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়ায় এখানে আর আসে না। তাই প্রতি বছর ধান কাটার চরম শ্রমিক সংকটে পড়তে হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়- চলতি বছরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ইরি বোরো ধান চাষের প্রায় ২৫ হাজার ১শত ৯০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এই মৌসমে ২৩ হাজার ৫শত ৭০হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান রোপন করা হয়েছে।

উপজেলার নাজিম নগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান- এই মৌসমে ৬০বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে ধান ভাল হয়েছে। কিন্তু সমস্যা একটাই ধান কাটার শ্রমিক সংকট। যত দিন যাচ্ছে আর এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ইনাত নগর গ্রামের কৃষক ফখরুল ইসলাম বলেন- আমি ৪০বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কয়েক দিনের ঝড় বৃষ্টির কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মুখে পড়তে হয়েছে। অপরদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে সঠিক সময়ে ধান কাটতে পারছি না।

জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কে.এম বদরুল হক বলেন, ইরি বোরো ধান লাগানোর শুরু থেকেই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। ভাল ফলনও হয়েছে কিন্তু কয়েক দিনের ঝড় বৃষ্টির কারণে পাকা ধানের কিছুটা ক্ষতি হবে। এখন আবহাওয়া ভাল বাজারে ধানের ভাল দাম থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

(আজকের সিলেট/১৮ মে/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন