১৭ মে ২০১৮


মৌলভীবাজারে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া

শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারো রমজানের আগেই মৌলভীবাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্যের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। পণ্য সামগ্রী সময় ও চাহিদা অনুযায়ী বাজারে না আসা, বেশি দামে ক্রয় করার কারণেই বাজার দর বেড়ে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বিশেষ করে সব ধরনের মাংস, সবজি, কাচা মরিচ, বেগুনের দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের শাকের দাম দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে গেলে মৌলভীবাজারের কাঁচাবাজার পশ্চিমবাজারে দেখা যায় – কেজি প্রতি আদা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচের কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ছোলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, সোয়াবিন তেল ৫ লিটার ৪৩৬ টাকা, এক লিটার ৯০ টাকা ও দুই লিটার ১৭৬ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে, বাজারে গরু, খাসি ও মুরগির মাংসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা। কিন্তু গত কয়েক দিন আগেই মৌলভীবাজারে গরুর মাংসের কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৩৭০ টাকায় পাওয়া যেত।

গরুর মাংসের ন্যায় খাসির মাংসেরও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌলভীবাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি খাসির মাংস ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মাংসের পাশাপাশি ডিমের দামও বাড়ানো হয়েছে। মৌলভীবাজারের বাজারগুলোতে প্রতি হালি ডিম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, ভারতীয় ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পশ্চিমবাজারের ব্যবসায়ী নাহিদ মিয়া জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাজারে সব রকম সবজিসহ অন্যান্য পণ্য চাহিদার তুলনায় কম সরবারাহ হচ্ছে তাই বাধ্য হয়েই আমাদের বেশি দামে ক্রয় করার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে দুই ত্রক দিনের মধ্যে বাজার পূর্বের স্থানে ফিরে যাবে বলে আশা করেন ত্রই ব্যবসায়ী।

পশ্চিমবাজারে বাজার করতে আসা নাজিয়া চৌধুরী নামের এক ক্রেতার সাথে এই প্রতিবেদককের কথা হলে তিনি জানান- সবকিছুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যদি বাজার গুলো মনিটরিংয়ের আওতায় আনা যেত তাহলে সাধারণ মানুষকে এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

বাজার করতে আসা শাহজাহান আহমদ নামের আরেক ক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, বৃষ্টির অযুহাত দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা সব সবজির দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করছে যাতে সাধারণ ক্রেতাদেরকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন রমজান এলে এমনিতেই বাজারে নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে দেন ব্যবসায়ীরা আর এখন বৃষ্টির অযুহাত দেখাচ্ছেন। সঠিকভাবে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসায়ীরা অযুহাত দেখিয়ে দাম বৃদ্ধি করতে পারতো না বলেও মনে করেন এই ক্রেতা।

(আজকের সিলেট/১৭ মে/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন