১০ মে ২০১৮


হবিগঞ্জের আতঙ্ক ‘বিজলি দানব’

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : মেঘ আর বৃষ্টি নামলেই এখন আতঙ্ক ঘিরে ধরে হবিগঞ্জের মানুষদের। আকাশ থেকে কখন কোথায় নেমে আসে ‘বিজলি দানব’ বজ্রপাত। প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণহানি। গত কয়েক দিনের বজ্রপাতে জেলায় নারী শিশুসহ অন্তত ১৬ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো ১০ জন।

জানা গেছে, হতাহতের বেশির ভাগই শ্রমিক, যারা মাঠে কাজ করছিলেন। বজ্রপাতে এভাবে প্রাণহানির ঘটনায় মাঠে কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন শ্রমিকরা। ফলে ধান কাটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকার ঘোষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাত গত কয় দিনে হবিগঞ্জে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উষ্ণায়নের ফলে মেঘ তৈরির তীব্রতা বেড়েছে। পরিবেশ আগের তুলনায় উত্তপ্ত অবস্থা থেকে শীতল অবস্থানে আসতে পারছে না। আর আসতে পারলেও সময় নিচ্ছে অনেক। এতে বাষ্পায়ন ছড়াচ্ছে বেশি। বাড়ছে মেঘ তৈরির তীব্রতাও। পরিণতিতে বাড়ছে বজ্রপাতের। বাতাসে ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ যত দ্রুততর হয় বজ্রপাত তত বেশি মাত্রায় হয় বলে জানান তারা।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হবিগঞ্জে গত ৩-৪ বছর ধরে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বাড়ছে।

মেঘের পজেটিভ ও নেগেটিভ আয়ন থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকালে বজ্রের সৃষ্টি হয়। তখন মেঘের ভেতরে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন গ্যাসের সম্প্রসারণ ঘটে। এতে প্রচুর ঝলকানি দিয়ে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে বজ্র।

বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে খোলা প্রান্তর ও বজ্র নিরোধক গাছগাছালির অভাব। বিশেষ করে তালগাছ। এ জন্যই গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেড়েছে।

বজ্রপাতে গত কয় দিনে হবিগঞ্জে যে ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে তার বেশির ভাগই ঘটেছে খোলা মাঠে।

(আজকের সিলেট/১০ মে/ডি/এসটি/ঘ.)

শেয়ার করুন