৫ মে ২০১৮


বাঁশের ‘সাঁকো’ই ভরসা তাদের

শেয়ার করুন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মাঝখানে খোয়াই নদীর উপর পাকা সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে শতশত শিক্ষার্থীসহ ও সাধারণ মানুষকে। একটি বাঁশের সাঁকো ও নৌকা দিয়ে চলাচলই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। ৩০টি গ্রামের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন।

এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়নের চরনূর আহমদ, লেঞ্জাপাড়া, বড়চর, এতবারপুর, কলিমনগর, আলাপুর, জগতপুর, বাতাশর, রতনপুর, হামুয়া, চর হামুয়া, সুদিয়াখলা, বাগুনিপাড়া এবং হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের উত্তর চর হামুয়া, দক্ষিণ চর হামুয়া, হাতির তান, লস্করপুর, মশাজান, শুলতানশী, নোয়াগাও, বাতাশর, বনগাও, সুঘর, চর হামুয়া, হামুয়া, গঙ্গানগর আদ্যপাশা, কটিয়াদি গ্রামের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরই এই সাঁকোটি নিজেরা মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ এবং দৈনন্দিন কর্মসংস্থানের কারণে সাঁকো পেরিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় তাদের। সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোর কৃষকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বিক্রিসহ রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

চরম দুর্ভোগে থাকা এলাকাবাসীর দাবি খোয়াই নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে নদীর দুই পাড়ের হাজার মানুষের জীবনযাত্রা।

এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তা বাস্তবায়ন করে না কেউই। তাই এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেরাই এই বাঁশের সাঁকো তৈরি ও মেরামত করতে হয়।

চর হামুয়া গ্রামের রফিক আলী বলেন, আমাদের চাষাবাদের জমি খোয়াই নদীর ওপারে হওয়ায় এই সাঁকো দিয়ে ফসল আনা-নেয়া করতে হয়। প্রতিদিনই এখান দিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্কুলে যাতায়াত করে।

উত্তর চর হামুয়া গ্রামের শফিক মিয়া জানান, এই বাঁশের সাঁকোর কারণে দুই ইউনিয়নের ৩০ গ্রামের মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই দেখছি খোয়াই নদীতে বন্যার সময় নৌকা পারাপার এবং কম পানিতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে চলতে হয়েছে। কবে চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদীতে ব্রিজ হবে তা জানি না। ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে উভয় ইউনিয়নের লোকজনই উপকৃত হবে।

(আজকের সিলেট/৫ মে/ডি/এমকে/ঘ.)

শেয়ার করুন