২৬ ডিসেম্বর ২০২৩
ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশের সবচেয়ে বড়, সুন্দর ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সম্ভাবনাময় জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর । বর্ষা ও শুকনা মৌসুমে হাওরের দুই রূপ চোখে পড়ে। প্রতি বছর শীতের শুরুতে হাওরটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন হলেও এবার আশানুরূপভাবে দেখা মেলে নি তাদের। শীত এলেও পাখি না আসায় হাসছে না মিঠা পানির এ জলাবন ।
পাখি দেখতে আসা পর্যটকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে নির্বিচারে পাখি শিকার করাতেই এবার অতিথি পাখিদের ভিড় নেই হাওরে। তবে আগের তুলনায় পাখি শিকার অনেকাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ছবি : সংগৃহীত
এবার আশানুরূপ পাখি না আসার কারণ হিসেবে হাওরের দায়িত্বে থাকা কমিউনিটি গার্ড ও নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সুনামগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নজর দেন টাঙ্গুয়ার হাওর ও তাহিরপুর উপজেলার পর্যটন শিল্পের ওপর। তিনি আসার পর তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পাখি শিকারিদের গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করায় টাঙ্গুয়ার হাওরে এখন পাখি শিকার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিয়ে এক শ্রেণির কিছু অর্থলোভী পাখি শিকারি এখনো চুপিসারে অল্পসংখ্যক পাকি শিকার করছে বলে জানা গেছে কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্রে।
এদিকে থাকা, খাওয়া, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও প্রতিদিনই দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক কষ্ট সহ্য করে পাখি দেখতে আসছে মাদার ফিশারিজখ্যাত তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরে। কিন্তু পাখির দেখা না মেলায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। টাঙ্গুয়ার হাওরের গাছ, মাছ ও পাখি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় ক্ষুব্ধ হচ্ছেন আগত পর্যটকরা।
ছবি : সংগৃহীত
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জেলার তাহিরপুর ও ধরমপাশা উপজেলায় এ হাওরের অবস্থান।দুই উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১৮টি মৌজা মিলে হাওরের আয়তন ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। হাওরে ছোট-বড় ৫৪টি বিল আছে। এর ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষায় সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তখন হাওর রূপ নেয় সমুদ্রে।
শীতে নয়ন মোহিত করা মাথার উপরে নীল আকাশ, উড়ে চলা সাদা বক ও পানকৌড়ির ঝাঁক, চারদিকে শান্ত জলরাশি, মাঝে মাঝে হিজল-করচ গাছ, পাখিদের মধুর গুঞ্জনধ্বনিএসব দেখতে-শুনতে এ হাওড়ে প্রতিদিন ছুটে আসেন পাখি অনুরক্ত সাধারণ মানুষ ও সৌন্দর্যপিয়াসী পরিব্রাজকরা।সুদূর অতীত থেকেই এ হাওর দেশি-বিদেশি পাখি ও মাছের বিশেষ অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।হাওরটিতে সবচেয়ে বেশি পাখির দেখা মেলে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে।
এএস // আতারা