২৩ ডিসেম্বর ২০২৩
ওসমানীনগর প্রতিনিধি : গ্রামবাংলায় ঢেঁকিতে ধান ভানার দৃশ্য এখন চোখেই পড়ে না। শোনা যায় না ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ। এক সময় ভোরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধতা ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত ঢেঁকির শব্দ। পরিবারের নারীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান ভানার কাজ ঢেঁকিতে করতেন। পাশাপাশি চিড়া তৈরির মতো কঠিন কঠিন কাজও ঢেঁকিতে করা হতো।
সিলেটের ওসমানীনগরে এক সময় অগ্রহায়ণ মাস আসলেই আমন ধান ঘরে তুলে নবান্ন উৎসবসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠাপুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতে ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করা হতো। সে সময় গ্রাম্য বধূদের ধান ভানার গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে চারিদিকে হৈচৈ পড়ে যেত। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতির কাছে ম্লান হয়ে গেছে আগেকার দিনের সেই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির ব্যবহার।
জানা যায়, উপজেলায় গ্রাম বাংলার কৃষকদের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাঠের ঢেঁকি। ধান, চাল, আটা ও চিড়া ভাঙানোর জন্য বৈদ্যুতিক মিল হওয়ার কারণে গ্রামীণ কৃষকরা সহজেই ধান, আটা ও চিড়া কম সময়ে অল্প খরচে ভাঙাতে পারছেন। কিন্তু এক সময় গ্রামের অভাবগ্রস্ত গরিব অসহায় মহিলাদের উপার্জনের প্রধান উপকরণ ছিল ঢেঁকি। বর্তমানে আমন ধান কাটা থেকে মারাই ও ধান ভাঙা পর্যন্ত কাজ সমাপ্ত করেন আধুনিক মেশিনেই। আর তাই আধুনিক যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ও গৃহস্থলী সামগ্রী ঢেঁকি। এখন পুরোপুরি যান্ত্রিক ঢেউ লেগেছে। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দ।
উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের মজলিশপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী নিভা রাণী দাস বলেন, ঢেঁকিতে ভাঙা চালের গুঁড়ার পিঠা-পায়েসের স্বাদ ছিল অতুলনীয়। ঢেঁকির অভাবে অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও পিঠা তৈরি করে খাওয়া হয় না
তাজপুর বাজারের ব্যবসায়ী সিদ্দিক আলী জানান, গ্রাম বাংলায় এক সময় ঢেঁকির গুরুত্ব ও কদর ছিল বেশ। বর্তমানে বৈদ্যুতিক বা আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়ায় তা বিলুপ্তির পথে। আগামী প্রজন্ম যাতে বাংলার এসব সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন স্থাপন করতে পারে সেজন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।