১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। আবাদী-অনাবাদী জমিতে কৃষকরা এখন সরিষা চাষ করছেন। তাদের অভিমত, ধানের তুলনায় সরিষায় লাভ বেশি। সরিষা চাষ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অল্প সময়ে, অল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়ায় এই সরিষা আবাদ দিন দিন বাড়ছে। ফলে এ বছরও ভাল ফলনের আশা করছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষি আবাদ থেকে হারিয়ে যাওয়া সরিষা আবার ফিরে এসেছে নতুন প্রত্যাশা, নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। সরিষা ফুলের হলুদে বর্ণিল হয়ে গেছে উপজেলার মাঠ-প্রান্তর। মাঝে মাঝে দিগন্ত বিস্তৃত সরিষা মাঠের মধ্য দিয়ে উকিমারে রক্তিম সূর্য্য। মাঠভরা হলুদ ফুল দেখে ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,বিগত বছরগুলো থেকে চলতি মৌসুমে গোয়াইনঘাটে বেড়েছে সরিষার আবাদ।উপজেলার সদর, রুস্তমপুর,পূর্ব জাফলং ও লেংগুড়া ইউনিয়নে বেশি সরিষার চাষ হয়ে থাকে।পাশাপাশি অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতেও সরিষার আবাদ হয়।কৃষি বিভাগ বলছে এবছর উৎপাদনও বেশি হবে বিগত বছরগুলোর চেয়ে। উপজেলার চাষিরা সরিষা ক্ষেত থেকে সরিষার পাশাপাশি মধু উৎপাদন করতে পারবে। এ ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আবাদ আরও বাড়লে মধু উৎপাদনের জন্য কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।সদর ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের কৃষকরা সরিষা থেকে মধু উৎপাদন করে থাকেন।
এবার গোয়াইনঘাটে ৭৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকরা বেশ আনন্দিত। সারীঘাট এলাকার কৃষক আব্দুল ওদুদ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসারদের পরামর্শে বোরো ধানের আগে ৪ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করছেন। কম খরচ ও অল্প দিনের পরিচর্যার মাধ্যমে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব সরিষা চাষে।এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রণি জানান, এভাবে আবাদ বাড়তে থাকলে গোয়াইনঘাটে সরিষা চাষে বিপ্লব ঘটেবে। তখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও বিক্রি করা যাবে এই ফসল। সরিষা একটি অন্তরবর্তীকালীন ফসল। আমন ধান ও বোরো ধান চাষের মধ্যবর্তী সময়ে চাষ করা হয় বিধায় এ সরিষা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ফলন বেশী ও বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। উন্নত জাতের ১৪,১৬ ও১৮ সরিষা চাষে দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা অনেক খানি পূরণ হবে। এছাড়া ভোজ্যতেলে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের বীজ-সার প্রণোদনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে তার বিভাগ।