৫ ডিসেম্বর ২০২৩
সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাষিরা। ছবি : সংগৃহীত
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : বিস্তৃত মাঠজুড়ে সোনালি ধানের ঢেউ। চারদিকে আনন্দের ছড়াছড়ি। চলছে ধান কাটার উৎসব। তবে হঠাৎ করে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কৃষকদের মুখ মলিন করে দিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। রোপা আমন জমিতে আঘাত হানছে এসব পোকা। দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন ধরনের বালাই নাশক স্প্রে ব্যবহার করছেন কৃষকরা।এদিকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাষিরা।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৭ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ করা হয়েছে। গত অক্টোবরের প্রথম সাপ্তাহে অতিবৃষ্টিতে হাওরে অধিকাংশ জমি তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কয়েকদিনের মধ্যেই পানি নেমে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণটা কমে আসলেও আবার পাকা ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েন কিষানরা।
এছাড়া জমি আবাদের খরচ অনুযায়ী ধানের মূল্য না পাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তারা। প্রান্তিক কৃষকরা সরকারিভাবে ধান কেনার কার্যক্রম দ্রুত করার দাবি জানান।
কৃষক চাবু মিয়া জানান, তিনি ৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছেন। আর কয়েকদিন পর ধান ঘরে তুলবেন। এরই মধ্যে কারেন্ট পোকার আক্রমণে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বাজার থেকে বালাই নাশক ওষধ কিনে জমিতে স্প্রে করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অনেকের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ধান ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফলে তারা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যান্য এলাকায় সরকারিভাবে খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করলেও আজমিরীগঞ্জের খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কখন সরকারিভাবে সংগ্রহ শুরু হবে।
উপজেলা খাদ্য গুদাম পরিদর্শক মো. সামছুল হুদা বলেন, এ উপজেলায় ৩০ টাকা কেজি দরে ২৫৪ মেট্রিক টন রোপা আমন ধান সংগ্রহ করা হবে। কৃষকেদর তালিকা তৈরী করে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সংগ্রহ শুরু করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.লুৎফে আল মুঈজ বলেন, বিভিন্ন ধরনের রোগবালাই থেকে ফসলকে মুক্ত রাখতে কৃষকদের মাঝে সচেতনতা মূলক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পুর্নবাসনের জন্য প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় সরকার এ উপজেলায় ১ হাজার ৭৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিভিন্ন ধরনের বীজ ও সার বিতরণ করেছে।
এএস // আতারা