৫ ডিসেম্বর ২০২৩
বেতশিল্পের জন্য বিখ্যাত সিলেট নগরীর ‘ঘাসিটুলা’ এলাকা।সরেজমিনে নগরীর ঘাসিটুলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে , সারাদিনে তারা একটি পণ্য ও বিক্রি করতে পারে নি। ছবি : সংগৃহীত
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন শিল্পগুলো বিলুপ্তির দ্বার প্রান্তে। প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে নানান শিল্প ও শিল্পকর্ম। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প। বর্তমানে বেতের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। এক সময় মাঠে চাষ হতো বেতের। এ ছাড়াও যত্রতত্র পথেপ্রান্তরে চোখে পড়ত বেতগাছ। আর সে সময়ে গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেতের ঢাকি, পাতি মোড়া, দাঁড়িপাল্লা, ধামা, পাখা, ঝাড়ু ও ছোটদের দোলনাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ভিড়ে চাহিদা হারিয়ে ফেলেছে বেতশিল্প।বেচা-কেনা খুব একটা হয় না বলে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আগ্রহী কারিগররাও প্রাপ্য মজুরি না পাওয়ায় পেশা বদল করতে যাচ্ছেন। এই শিল্পের কাঁচামাল একটা সময় সহজলভ্য হলেও বর্তমানে তা খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। যে টুকু পাওয়া যায় তা আবার কিনতে হয় কড়া দামে।
বেতশিল্পের জন্য বিখ্যাত সিলেট নগরীর ‘ঘাসিটুলা’ এলাকা।সরেজমিনে নগরীর ঘাসিটুলা এলাকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে , সারাদিনে তারা একটি পণ্য ও বিক্রি করতে পারে নি। এমনকি অনেক দোকানদার বলেন,এরকম দু’তিন দিন পার হয়ে গেলেও ক্রেতা পাওয়া যায় না।
স্থানীয় এক বেত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, একটা সময় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেতের আসবাবপত্রের অর্ডার আসতো। কিন্তু এখন সারা দিনেও একটা পণ্য বিক্রি করতে পারেন না। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক এর তৈরী হরেকরকম ডিজাইন এর ফার্নিচার আসার কারণে মানুষ এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এর জন্য তিনি প্লাস্টিকের তৈরী পণ্যের সহজলভ্যতাকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বেত উৎপাদন কমে গিয়েছে।বর্তমানে বেতের কেজি একহাজার টাকা।এমনকি আগে যেসব এলাকে থেকে বেত আসতো সেই সব এলাকায়ও বেত খুব একটা বেড়ে ওঠছে না। বনজঙ্গল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বনাঞ্চল কিংবা টিলা এলাকায় বেত প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠার পরিবেশ এখন নেই। তার পরও যেসব এলাকা থেকে কিছু বেত সংগ্রহ করা হতো, সেই পথও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।ফলে বেশি দামে বেত কিনতে হচ্ছে এবং কারিগরি মজুরিও অনেকটা বেড়েছে। ক্রেতারাও দাম বেশি দাবি করেন।
অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, ব্যবসা এখন আর খুব একটা সুবিধাজনক হয় না। বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র বের হওয়ার কারণে বেত এর আসবাবপত্রের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।আমরা এ ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।সারা দিনেও কোন বিক্রি নেই।মাসে দোকান ভাড়া দিতে হয় অনেক কষ্ট করে। চার/পাঁচদিন চলে যায় একটা পণ্যও বিক্রি হয় না।
ঘাসিটুলা এলাকা ছাড়াও বর্তমানে সিলেট নগরীর নবাব রোড, শাহজালাল মাজার গেট, জিন্দাবাজার এলাকায় বেতের আসবাবপত্রের কিছু দোকান দেখতে পাওয়া যায়। আসবাবপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— বেতের তৈরি ম্যাগাজিন র্যাক, টেলিফোন চেয়ার, সোফাসেট, বেডসেট, স্যুজ র্যাক, ট্রলি, টেবিল, চেয়ার, ফোল্ডিং চেয়ার, কর্নার সোফা, ইজি চেয়ার, ডায়নিং চেয়ার, বেবি কট ও নবাব সেটসহ রকমারি ফার্নিচার।
অন্যদিকে কয়েকটি দোকানে বেতের তৈরি জিনিসপত্র থাকলেও নেই আগের মতো কারিগরের উপস্থিতি। তবু কিছু ব্যবসায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ শিল্পের প্রসারে ভূমিকা রাখছেন। তারা বলছেন,
সরকার চাইলে এ শিল্পকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
এএস // আতারা