১৯ নভেম্বর ২০২৩
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লিলাভূমি মৌলভীবাজার জেলা। যেখানে রয়েছে সৌন্দর্যে ভরপুর চা বাগান, প্রাকৃতিক ঝর্ণা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। চিরহরিৎ বন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সু-উচুঁ গগণটিলা পাহাড়। এশিয়ার বৃগৎ হাকালুকি হাওর ও পাহাড় ঘেরা মাধবপুর লেক। এসব দর্শনীয় স্থানে যেখানে প্রতিদিন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে দেশ বিদেশের পর্যটকরা ছুটে আসেন। তবে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই ধাপে ধাপে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধের প্রভাবে হোঁচট খাচ্ছে চায়ের রাজ্যে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প। বছরের এই সময়ে জেলার অভিজাত হোটেলসহ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ অধিকাংশই রয়েছে ফাঁকা। জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আশানুরূপ পর্যটকদের দেখা নেই। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
পর্যটন শিল্পে জড়িতরা জানান, চলমান অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকেরা পথে গণপরিবহন না পাওয়া ও রাস্তাঘাটে সংঘাত, সংঘর্ষের কথা চিন্তা করে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাচ্ছেন না। অনেকেই আগাম হোটেল বুকিং বাতিলও করে দিয়েছেন। তাই খালি পড়ে আছে এখানকার অধিকাংশ রিসোর্ট, হোটেল-মোটেলগুলো। এতে পর্যটন শিল্প আবারও ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

পর্যটকেরাই শ্রীমঙ্গলের লেবু, আনারস, চা, মণিপুরি শাড়িসহ হাতে বানানো বিভিন্ন সামগ্রীর মূল ক্রেতা। কিন্তু অবরোধের কারণে সবখানেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই পর্যটক পাচ্ছেন না বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বছরের অন্যসময়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনে প্রচন্ড বেগ পেতে হয় ফজল মিয়া ও সিদ্দিক মিয়ার। কিন্তু বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা হরতাল-অবরোধে মৌসুমের শুরুতেই পর্যটক শূন্য হয়ে পরায় পর্যটন খাত। এখন পর্যটকের সংখ্যা খুবই কম। আর যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই স্থানীয়। তারা এখন অলস সময় পার করছেন।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এস কে দাস সুমন বলেন, শুধু হোটেল-মোটেল নয়, জেলার কৃষিপণ্য ও চা-ব্যবসায়ও পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। চলমান হরতাল অবরোধে পর্যটনশিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
ধাপে ধাপে চলা অবরোধের কারণে পর্যটন মৌসুমের শুরু দিকেই হোঁচট খাচ্ছে পর্যটন শিল্প জানিয়ে শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, সাধারণত এ সময়েই পর্যটকেরা এখানে আসতে চান। কিন্তু নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তারা এখন আসতে চাচ্ছেন না।
শ্রীমঙ্গলের ব্যবসায়ী সমিতি সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে পর্যটকেরা ঘুরতে বের হচ্ছেন না। পাশাপাশি তারা নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। ফলে পর্যটনের শহর শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।