১৮ নভেম্বর ২০২৩


সকাল-সন্ধ্যার বিশেষ চার আমল

নবিজির সুন্নত পালন আমাদের কর্তব্য।

শেয়ার করুন

হাবীবুল্লাহ আল মাহমুদ : নফল আমল এমন বিষয়, যা মানুষকে গোপন গুনাহ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ সহায়ক। মানুষকে শরিয়তের হুকুম অনুযায়ী চলতে শক্তি যোগায়। জিকির ও দোয়া আত্মার খোরাক, দুশ্চিন্তা দূরীভূতকারী এবং অফুরান কল্যাণ লাভের মাধ্যম। তাই মুমিনের জন্য করণীয় সর্বদা এসব নফল জিকির ও আমল করা। এমন কিছু দোয়া ও জিকির রয়েছে যা আদায় করার সর্বোত্তম সময় হলো সকাল-সন্ধ্যা। এমনকি রাসুল (সা.) দিন-রাতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর জিকিরে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। স্বয়ং আল্লাহর আদেশ হলো, ‘তুমি স্বীয় প্রতিপালকের অধিক পরিমাণে জিকির করতে থাকো আর তার তাসবিহ পাঠ করো সকাল-সন্ধ্যায়।’ (সুরা আলে ইমরান : ৪১)

এক. আয়াতুল কুরসি। আয়াতুল কুরসি অতি ফজিলতপূর্ণ এক আমল। কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় একবার আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে পাঠকারী সমগ্র দিন-রাত জিনের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবে। রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়, ‘যে ব্যক্তি সকালে আয়াতুল কুরসি তিলাওয়াত করবে সে এর মাধ্যমে সন্ধ্যা পর্যন্ত (আল্লাহর) হেফাজতে থাকবে।

আর যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তা তেলাওয়াত করবে সে ব্যক্তি এর মাধ্যমে সকাল পর্যন্ত (আল্লাহর) হেফাজতে থাকবে। (তিরমিজি : ২৮৭৯)। কেউ রাতে নিদ্রায় যাওয়ার সময় পড়লে শয়তান তার নিকটবর্তী হবে না। (বুখারি : ২৩১১)। এমনকি যে প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকে না। (বুলুগুল মারাম : ৩২৬)।

আরও পড়ুন : এই শীতে ঘুরে আসুন বাংলার নীলনদ ‘লালাখাল’

দুই. তিন কুল। কোরআন মাজিদ মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। কোরআনের অতি গুরুত্বপূর্ণ সুরাসমূহের অন্যতম তিন কুল। তিন কুল মানে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পাঠ করবে তা পাঠকারীকে সব কিছুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেবে। (আবু দাউদ : ৫০৮২)

আরও পড়ুন : নির্বাচন করতে চান না সিলেট-৫ আসনের বর্তমান এমপি হাফিজ মজুমদার

তিন. সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার। কোনো ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সায়্যিদুল ইস্তিগফার একবার পাঠ করলে সে ওই দিন বা রাতে মৃত্যুবরণ করলে সুনিশ্চিত জান্নাতি হবে। (বুখারি : ৬৩০৬)। সায়্যিদুল ইস্তিগফার এই— ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, খালাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু। আঊযু বিকা মিন শাররি মাসানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবউ লাকা বিজাম্বি।
ফাগফির লি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয জুনুবা ইল্লা আনতা।’ অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা। আর আমি আমার যথাসাধ্য আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

আমার প্রতি আপনার প্রদত্ত নেয়ামতের স্বীকার করছি। আর আপনার নিকট আমার পাপের
স্বীকৃতিও প্রদান করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না।’

আরও পড়ুন : দারুল হাদিস জাতুগ্রাম মাদরাসার শনিবারের জলসা স্থগিত

চার. যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নে বর্ণিত দোয়াটি তিনবার করে পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। (তিরমিজি: ৩৩৮৮)। দোয়াটি এই—‘বিসমিল্লা-হিল্লাযি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।’

অর্থাৎ, ‘শুরু করছি আল্লাহর নামে; যাঁর নামের সঙ্গে আসমান এবং জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।’ এ ছাড়াও আরও অগণিত ফজিলতপূর্ণ আমলের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ছোট-বড় সব আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

এএস // আতারা

শেয়ার করুন