১৬ নভেম্বর ২০২৩
শিশুদের মক্তবে যাওয়ার চিরাচরিত এই দৃশ্য এখন আর গ্রামবাংলায় খুব একটা দেখা যায় না। ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। বিশেষত ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে ধর্ম মোতাবেক জীবন যাপন করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি সঠিকভাবে অজু করতে জানে না বা ফরজ গোসল করতে জানে না, সে নামাজ পড়বে কীভাবে? অন্তত নামাজ পড়ার জন্য যে কয়টি সুরা শুদ্ধভাবে জানা প্রয়োজন, একজন মুসলমান হিসেবে সেগুলো শিখে রাখা জরুরি। আর শৈশবেই এ আলোকে সন্তানদের গড়ে তোলা না গেলে কারণে-অকারণে সে সুযোগ হয়ে ওঠে না।
আরও পড়ুন : হরতাল-অবরোধ বিষয়ে ইসলাম কী বলে
এমন চিন্তা থেকে একসময় ভারতবর্ষের মসজিদে মসজিদে চালু হয় মক্তব ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রতিটি মুসলমান শিশুকালেই ইসলামের মৌলিক জ্ঞানগুলো অর্জন করতে পারত। সেই ধারাবাহিকতায় সিলেটের মসজিদগুলোতেও সকালবেলা শিশুদের মক্তব খুলে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়ার রেওয়াজ যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। একসময় সিলেটের পথে-ঘাটে ভোরের পাখিদের সঙ্গে সঙ্গে মক্তবগামী কোরআনের পাখিদের দেখা মিলত।
আরও পড়ুন: ৩২ কোটি টাকার সৌর প্রকল্পেও আলোহীন শাল্লার ৫ গ্রাম
সম্প্রতি সিলেট নগরের মসজিদগুলোতে সকালবেলা মক্তবের পড়া প্রায় নেই বললেও চলে। তেমনি গ্রামাঞ্চলেও কালের দীর্ঘশ্বাসে চাপা পড়ে যাচ্ছে এ শিক্ষা।
সচেতন মহল পারিবারিক অসচেতনতার পাশাপাশি মক্তব শিক্ষা বন্ধ হওয়ার পিছনে প্রাইভেট স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনের মর্নিং শিফটকে দায়ী করছেন।
তারা মনে করেন,এটি শিশুদের দ্বীন শেখার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর প্রভাবে তৈরি হচ্ছে ধর্মীয় জ্ঞানশূন্য একটি বিশাল জনগোষ্ঠী। আর স্কুলে যে পদ্ধতিতে এবং যে সিলেবাসে তা পড়ানো হয়, এতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয় না।
চিকনাগুল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা কয়েস আহমেদ বলেন বলেন, আগেরকার দিনে আব্বা-আম্মা ঘুম থেকে ভোরে ডেকে দিয়ে মসজিদে পাঠাতেন। আমরা চোখ মুছে মুছে বিস্কুট বা মুড়ি হাতে নিয়ে মসজিদে চলে যেতাম। কিন্তু বর্তমানে এমন দৃশ্য চোখে খুব কম পড়ে। কারণ পরিবারের অসচেনতার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্ম তাদের বুনিয়াদী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আগে এশার নামাজ পড়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে সবাই ঘুমিয়ে পড়তেন। আর এখন রাত বারোটা একটা হয়ে গেলেও দেখা যায় বাবা-মা সন্তানদের নিয়ে গল্প করছেন, শিশুরাও মোবাইলে গেইম খেলতে থাকে। এতে করে ভোর বেলা যে ঘুম থেকে উঠে মক্তবে যাবে এমন ইচ্ছা আর থাকবে না। তাই এই বিষয়গুলো আমাদের খেয়াল রাখা উচিত।
আরও পড়ুন : শাযেস্তাগঞ্জে ট্রাক চাপায় সিএনজি চালক নিহত
টিলাগড় শাপলাবাগ মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম মক্তবে পড়তে না গেলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। মসজিদের হুজুর খুব আদর করতেন। যখন তিনি আমাদের কোরআন তেলাওয়াত করে শুনাতেন তখন আমরা সবাই তার পড়া ফলো করতাম। পরে তিনি আমাদের পড়া শুনতেন।
তিনি আরও বলেন, সচেতন মুসলিমরা এখনো তাদের সন্তানদের জন্য মক্তব শিক্ষার ব্যবস্থা করছেন। কেউ কেউ অনলাইনের মাধ্যমে দেশে থাকা হুজুরদের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করছেন। দেশের মক্তবগুলো কেন বন্ধ হচ্ছে সে বিষয়গুলো খুঁজে বের করা উচিত।
এএস // আতারা