১২ নভেম্বর ২০২৩


ভয়াবহ সঙ্কটের মুখে সিলেটের অর্থনীতি

সিলেটের অর্থনীতিতে আরও একদফা ধস। ছবি: উইকিপিডিয়া

শেয়ার করুন

 

আবু তালহা রায়হান : মরণঘাতি করোনা,ধাপে ধাপে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম ধস নামে সিলেটের অর্থনীতিতে। কিন্তু এসবের দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই টানা অবরোধ ও হরতালে ফের হোঁচট খেল শাহজালালের এ পুণ্যভূমি । উঠে দাঁড়াতেই হাঁটু ভাঙল দেশের অন্যতম ধনাঢ্য ও বিলাসবহুল অঞ্চলটির অর্থনীতির।

 

গেল ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির বহুল আলোচিত মহাসমাবেশ শুরুর দেড়ঘণ্টা পর কাকরাইলে ক্ষমতাসীন দলের কর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই নয়াপল্টনে সহিংস সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সমাবেশ মাঝপথে পণ্ড হয়ে যায়। এরপর থেকে খণ্ড খণ্ডভাবে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি, জামায়াতসহ সমমনারা।

আরও পড়ুন : জাঁকিয়ে শীত নেমেছে সিলেটে : বিপাকে সীমান্তবর্তী মানুষ

 

দেশজুড়ে টানা এসব কর্মসূচিতে আরও একদফা ধস নামল সিলেটের অর্থনীতিতে। অবরোধ-হরতালে ব্যবসাবাণিজ্য ঠিকমত না চলায় অর্থনীতির এমন দশা বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলছেন,দেশের অন্যতম ধনাঢ্য শহর সিলেট।অঞ্চলটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে বেশি।ফলে বছরে অন্তত একবার হলেও আর্থনৈতিক হুমকির মুখে পড়ে সিলেট। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন।করোনা,বন্যা পর হরতাল-অবরোধের চাপায় পড়েছে সিলেট। ভাঙচুর-সংঘর্ষের আতঙ্কে যান চলাচল অস্বাভাবিক হওয়ায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমেছে। ব্যবসাবাণিজ্য ঠিকমত হচ্ছে না। হতাশ হয়ে পড়েছেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। ফলে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে অঞ্চলটির অর্থনীতি।


সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতের চলমান অবরোধে সিলেট জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের শীর্ষ কয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,রাজনৈতিক সহিংসতার প্রভাব পড়েছে সিলেটের সর্বক্ষেত্রে। টানা অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তি ব্যবসাবাণিজ্য। নগরজুড়ে এখন আর্থনৈতিক মন্দাভাব। নীরব কান্নায় অশ্রু ঝরছে সিলেটবাসীর।

আরও পড়ুন : ‘সিলেটের উন্নয়নে শেখ হাসিনা আন্তরিক’ : সিসিকের আনন্দর‌্যালি

 

কানাইঘাটবাজার বণিক সমিতির কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,টানা অবরোধ ও হরতালে ব্যবসায় ধস নেমেছে। শ্রমজীবীরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না স্বাভাবিকভাবে।আগে একদিনে যে ব্যবসা হত,এখন তিনদিনেও তা হচ্ছে না। অবরোধ আতঙ্কে কোনকিছুই হচ্ছে না। অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গোয়াইনঘাটবাজার সভাপতির সঙ্গে কথা বলে উদ্দ্যোক্তা আদিল আহমেদ জানান,টানা হরতাল-অবরোধে চরম ভোগান্তিতে আছে গোয়াইনঘাটবাসী। যথাযথভাবে কোনকিছুই হচ্ছে না।গোয়াইনঘাটের আয়বহুল পাথর ব্যবসা,বালু ব্যবসা বন্ধ প্রায়। শ্রমজীবীরা নিয়মিত কাজ করতে পারছেন না। বাজারে দোকানপাট কিছুটা খোলা থাকলেও বেচাকেনা একদমই নেই বললে চলে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে অর্থ সঙ্কটে মানুষ না খেয়ে মরবে।

 


এদিকে অর্থনীতিতে দারুণ অবদান রাখা সিলটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোও পর্যটক খরায় ভোগছে। ফলে সেখানকার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রত্যাশিত পর্যটক না থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীসহ এ খাতের সঙ্গে জড়িতরা।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, গেল একসপ্তাহে অবরোধের কারণে সিলেটে পর্যটক না আসায় মোটা অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয় পর্যটন মৌসুম। নভেম্বর-ডিসেম্বরে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকে সিলেট। কিন্তু পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশ, হরতাল ও অবরোধের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সিলেট। এতে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।

হরতাল,অবরোধের প্রভাব শুধু দেশে নয়,আঘাত করেছে প্রবাসীদেরও। সৌদিপ্রবাসী সিলেটি এক যুবক বলেন, একামা রিনিউ করতে বাড়ি থেকে টাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু অবরোধ-হরতালের কারণে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে টাকা পাঠাতে পারেন নি। চরম ভোগান্তিতে আছি। একামা রিনিউ করতে না পারায় কাজে যেতে পারছি না।দেশে টাকা পাঠাতে পারছি না।

শেয়ার করুন