১২ নভেম্বর ২০২৩


নগরজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব অবরোধের

শেয়ার করুন

খলিলুর রহমান : আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা চতুর্থ দফা অবরোধের প্রথম দিন রোববার সিলেটের জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুরপাল্লার যাত্রীবাহী কোনো বাস ট্রাক শহর ছেড়ে যায়নি এবং এসেও পৌঁছায়নি। আবাসিক হোটেল-মোটেলগুলোতেও নেই অন্যদিনের মত পর্যটকদের ভিড়।
নগরীর বাইরে বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো। তওেব যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পরিশ বিজিবি টহলও ছিল দেখার মতো।
সকালে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বাইপাস এলাকায় সড়কে বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন যুবদল নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা যুবদল নেতা লিটন আহমদ। কিছুক্ষণ তারা সড়কে অবস্থান করে সটকে পড়েন।

অবরোধ সমর্থনে দুপুরে নগরীর নয়াসড়কেমিছিল করে বিএনপি। নয়াসড়কস্থ ঠিকানা টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিল বের করেন। কিছুক্ষণ পরই তারা মিছিল শেষ করে চলে যান।

সড়ক পথ ও জলপথে চলছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর অবরোধ। শহর-বন্দর অবরোধের আওতার বাইরে থাকলেও সকাল থেকে সিলেট নগরী প্রায় জনশূণ্য। নগরীতে হালকা যানচলাচলে কোনো বাধা না থাকলেও রিক্শা অটোরিক্শা লেগুনাগুলোকে দেখা গেছে যাত্রীশূণ্য। দোকানপাট ও বিনবিতানগুলো খোলা থাকলেও ক্রেতাশূণ্য। দোকান মালিক ও বিক্রেতাদের নিরিবিল সময় কাটোতে দেখা গেছে। নগরীর উপকণ্ঠের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী থেকে রিক্শা অটোরিক্শার সংখ্যা তিন থেকে চারগুন বেশি।
একজন অটো চালক জানান, আমরা সাধারণত ভাড়ায় সিএনজি অটোরিক্শা চালাই। দিনভর যাত্রী কম থাকুক আর বেশি থাকুক। মালিক পক্ষকে দৈনিক ৫০০ টাকা ভাড়া দিতেই হয়। নগরী অবরোধের আওতামুক্ত থাকায় মালিকরা অটোরিক্শা চালাতে আমাদের বাধ্য করেন। নইলে মালিক পক্ষ অন্যসময় আমাদেরকে গাড়ি দেবে না। হরতালের দিন গাড়ি বের না করলেও চলে । অনেক সময় মালিক পক্ষও গাড়ি বেকর করতে বাধা দেয়। কিন্তু অবেরোধের সময় নগরীতে বাধ্য হয়েই আমাদের চালাতে হয় রিক্শা অটোরিক্শা। যাত্রী না থাকায় দিন শেষে আমাদেরকে পকেট থেকেও দিতে হয় মালিকের ভাড়া। অথচ আমার গাড়িতে ৫ জন যাত্রীর স্থলে অনেক হাকডাক করে মাত্র ২ জনকে নিয়ে নগরের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছতে হয়েছে।

তিনি বলেন- অবরোধের দিন সড়ক মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় লোকজন টার্মিনালে পৌছতে পারে না বিধায় যাত্রী মিলে না। তাই সারা দির গাড়ি চালিয়ে কোনেমতে মালিকের ভাড়া মিলাতে হয়, নতুবা কর্জ করে হলেও ৫শ’ দিতে হয়। তাই অবরোধ থেকে হরতালই আমাদের জন্য ভালো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরীর জিন্দাবাজরস্থ ব্লুওয়াটা শপিং মলের এক ব্যবসাী জানান, দিনটা গত হয়ে গেল, কিন্তু বউনি করতে পারিনি। ব্যবসা চলমান লাখার প্রয়োজেনে পকেটের টাকা খরচ করে হলেও আসতে হয় দোকান খোলা রাখেতে হয়। গ্রাম বা শহরের বাইর থেকে পার্টি না আসলে আমাদের বিকিকিনি হয় না। অবরোধের কারণে লোকজন বাজার করতে বা সওদা কিনতে আসতে পারছে না বিধায় সারাদিন মাছি বাড়িয়ে থাকতে হয় আমাদের।

নগরীর বন্দরবাজারে ফুটপাতের এক কাচামাল বিক্রেতা সবজির দাম বেশি চাইলে ক্রেতা প্রশ্ন করলেন সবজির মওসুমে এতো বেশি দাম কেনো?উত্তরে বিক্রেতা বলেন- আপনার শহরের বাসা বাড়িতে আরামে ঘুম পাড়েন, খবর রাখেন না বাইরের। শহরের বাইরে গ্রামেরমাঠে সবজি পঁচলেও অবরোধের কারণে শহর বন্দরে সবজি নিয়ে আসতে পারছেন না চাষীরা। আর আসতে পারলেও ছোট গাড়ি অটোরিক্শা বা টেম্পু দিয়ে দফায় দফায় নামিয়ে সামন্য সামান্য করে সবজি নিয়ে আসতে হয়। ভাড়াও দিতে হয় দ্বিগন-তিনগুন,তাই দাম নিতে হয় বেশি। গ্রমের বাজারে সবজির কেজি ২০ টাকা হলেও শহরে নিয়ে আসতে ৪০ টাকা পড়ে যায়। তাই আমাদেরকে ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করতে হয়।

অবরোধে নগরের স্কুল কলেজ খোলা থাকলেও দুরের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী উপস্থিত হতে না পারায় ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। অফিস আদালত দেখা গেছে জনশূণ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও কম পরিলক্ষিত হয়।

সব মিলিয়ে নগরজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব অবেরেধের।

 

শেয়ার করুন