৫ নভেম্বর ২০২৩
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় রাশেল আহমেদ ও ইয়াছিন আহমেদ নামের দুই মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম মারপিট ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রবিবার (৫ নভেম্বর ) দুপুরে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।
হামলার শিকার ওই ছাত্ররা উপজেলার চামতলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

জানা গেছে, স্থানীয় মামুন মিয়া,জীবন মিয়া ও জুবায়ের আহমেদসহ বেশকিছু বখাটে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে মুঠোফোনে ছবি ধারণ,পথরোধ করে বাড়িতে যাওয়ার পথে বাধাসহ নানাভাবে বিরক্ত করে আসছিল।
এতে চরম বিরক্ত হয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাশেল আহমেদ ও ইয়াছিন আহমেদসহ বেশ কয়েকজন এর প্রতিবাদ করেন। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) মাদ্রাসা ছুটির পরে বাড়িতে যাওয়ার পথে উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার -চকবাজার রাস্তার জামাল পয়েন্টের নিকটে পৌঁছামাত্র রাশেল আহমেদ ও ইয়াছিন আহমেদকে পিছন থেকে এসে বখাটে মামুন মিয়া,জীবন মিয়া ও জুবায়ের আহমেদ মারধর করে ফেলে যায়।পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে অভিভাবকদের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী ম্যাডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিব বলেন, ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যদি বখাটেরা মারধর করার সাহস পায় তাহলে আমাদের সন্তানরা মাদ্রাসাগামী হবে কীভাবে?
চামতলা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হক বলেন, বখাটেরা ক্লাস শুরু হওয়ার একঘণ্টা আগে মাদ্রাসার মাঠের পাশে, পুকুর ঘাট, গোলচক্কর ও দোকানপাটসহ আশপাশে অযথা আশালীন পোশাক পরে ঘোরাফেরা করে। মাদ্রাসাছাত্রীদের ইভটিজিং করে।বিষয়টি আমরা তাদের অভিভাবকদের বেশ কয়েকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোন ফল হয়নি। ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসা ছাত্রদের মারধর করেছে তারা। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি। আমরা এই ইভটিজারদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস //মাশুক // আতারা