২৭ অক্টোবর ২০২৩
অমৃত জ্যোতি(মধ্যনগর)সুনামগঞ্জ:
হাওরাঞ্চলে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার অভ্যাস।বড়শি হলো মাছের খাবারের টুপ লাগিয়ে সকল প্রজাতির মাছ ধরার একটি ছোট্ট ফাঁদ। ডাইট্টা বা চুঙ্গি এমনকী লাড় লম্বা সূতায় অনেকগুলো বড়শি আটাকানো।আবার বঁড়শি’র গুড়ায় চিকন সূতা দিয়ে কোন কচুরীপনার ডাটা,বাঁশের ও ধইঞ্চা’র চুঙ্গায় বেঁধে ভাসা পানিতে ফেলে মাছ ধরার ফাঁদ নাম ছিল ডাইট্টা বা চুঙ্গি।এমনকি লম্বাকৃতির কূড়া বা ছিপের সাহায্যে বড়শি পানিতে ফেলে মাছ ধরতো প্রায় তিনদশক আগেকার গ্রামঞ্চলের মানুষ।
বর্তমান সময়ে চায়না,মশারী ও কারেন্ট জালের অবাদ ব্যাবহারের ফলে দেশীয় সকল ধরনের মাছ সহ পোনা বিলুপ্ত হচ্ছে। মাছের প্রজাতি রক্ষায় বড়শি ছিল বেশ উপকারী। পোনা মাছ ও প্রজনন রক্ষায় ক্ষেত্রে যতেষ্ট ভূমিক রাখতো।যার দরুন পোনা মাছ নিধনের কোন ভয় ছিল না।প্রায় সবধরনের স্বাবলম্বী মাছ এতে আটকা পরতো।এদের শিকার করকে মাছে আধার খাবার বা টুপ হিসেবে পোকা মাকড়,তেলাপোকা,পিঁপড়ার ডিম,লেটাজির,ভাত ময়দা ও চিংড়ি সহ ছোট মাছ। বঁড়শি অগ্রভাগে লাগিয়ে ফাঁদ পাতা হতো হাওর নদী বা ভাসা পানিতে।
এই ফাঁদ পাতার প্রসিদ্ধ স্থান ছিল স্রোতবান নদীর মোহনা, ভাসমান পানির পাট ক্ষেত,কচুরিপনার বাগ,উজারু বাগ জাতীয় কোন বন জঙ্গল বা ঢেউ বিহীন নিরব গোপন কোন স্থান।
বড়শিতে ধরা পরতো কৈ,মাগুর,ভেড়া,ষোল,টাকি,গজার,শৈলা,রুই,কাতল,বোয়াল,নানিদ,রিডা সহ সকল প্রজাতির মাছ গুলো শিকার করা যেত।সেই মাছগুলো ছিল যেমন সুস্বাদু মনোমুগ্ধকর ও তৃপ্তি জনক।বিলুপ্ত হলেও এখন অনেক সময় দেখা মিলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছে কোন সৌখিন মানুষ,আবদ্ধ পুকুরের পাড়ে।তবে অবসর সময় কাটতো আগেকার দিনের সববয়সী জনমানুষের।কিন্তু এখন অবসর সময় কাটে বাজে কোন আসড়ে। গবেষকদের মতে মাছের প্রজননধ্বংসকারী,মশারী,চায়না দোয়ারী ও কারেন্ট জালের উৎপাদন বন্ধ না হলে অচিরেই কোন সংরক্ষণাগার ছাড়া দেশীয় মাছের দেখা মিলবে না।তাই প্রচীন বড়শি দিয়ে মাছ ধরার পদ্ধতি অবলম্বন করার জোর দাবী জানান তারা।
আজকের সিলেট ডটকম / জেকেএস