৩ এপ্রিল ২০১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর মিরাবাজার খারপাড়া আবাসিক এলাকায় মা ও ছেলে দুবৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতেই খুন হয়েছেন বলে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তে পাওয়া গেছে। নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিরাবাজার খারপাড়ায় তিনতলা এক বাড়ির নিচতলা থেকে রবিবার সকালে মা রোকেয়া বেগম (৪০) ও ছেলে রবিউল ইসলাম রুপনের (১৬) লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাশের পাশ থেকে রাইসা নামে রোকেয়ায় পাঁচ বছরের মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
ফরেনসিক সূত্র জানায়, রোকেয়া ও তার ছেলে রুপনকে ছুরিকাঘাতেই হত্যা করা হয়। তাদের দুজনের শরীরে ১১২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় ময়নাতদন্তের সময়। রোকেয়া বেগমের শরীরে ৭২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এরমধ্যে পেটে ১৫টি, পিঠে ৩৫টি, উরুর পেছনের দিকে ১১টি, দুই হাতে তিনটি করে ছয়টি, গলায় চারটি এবং মাথার পেছনে একটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
সূত্র আরো জানায়, রুপনের শরীরে পাওয়া যায় ৪০টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন। এরমধ্যে গলার ডান দিকে একটি, বুকের বাম পাশসহ বিভিন্ন দিকে চারটি, পেটে ছোট-বড় ১৫, পিঠে তিনটি, বাম ও ডান হাতে ১৬টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জোড়া খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা মা ও ভাইয়ের সঙ্গে শিশু রাইসাকেও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেছিল। ওই সময় রাইসা সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে বাসার ভেতর ফেলে রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। রাইসার গলায় আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। সেটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
আসামিদের গ্রেফতার করার পর তাদের আঙুলের ছাপের সঙ্গে সংরক্ষণ করা ছাপগুলো মিলিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান। বর্তমানে রাইসাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাসার গৃহকর্মী তানিয়াসহ কয়েকজন যুবকের উপস্থিতির কথা পুলিশকে জানিয়েছে শিশু রাইসা। এখন তানিয়াকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে ধরতে পারলেই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশাবাদী পুলিশ।
(আজকের সিলেট/৩ এপ্রিল/ডি/এসটি/ঘ.)