১৭ অক্টোবর ২০২৩
ডেস্ক রিপোর্ট: নির্ধারিত দুইমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয় নি পুণ্যভূমি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ক্বীনব্রীজ মেরামত ও সংস্কারকাজ। গত ১৬ আগস্ট ক্বীনব্রীজে মেরামত, নবায়নসহ নির্মাণকাজের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দুইমাস ব্রীজটিতে সবধরনের চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর পথচারীদের চলাচল বন্ধ করতে সেতুটির দুই পাশে টিনের বেড়া দেওয়া হয়।এদিকে বিজ্ঞপ্তিতে দুইমাসের মধ্যে কাজ শেষ করার ঘোষণা ছিল। কিন্তু রেলওয়ে প্রকৌশল বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী (১৫ অক্টোবর,রোববার) ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারে নি বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ ।
পূর্বাঞ্চল প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ক্বীনব্রীজের মেরামতকাজের জন্য আরও দেড় মাসের মতো সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে নভেম্বর পর্যন্ত যানবাহন ও পথচারীদের জন্য ক্বীনব্রীজ বন্ধ থাকতে হবে।
পথচারী ও স্থানীয়রা বলছেন,কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে যাতায়াতের সহজপথ ক্বীনব্রীজ ।কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে মেরামতকাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। মেরামতকাজ চলায় বেশ কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। সেতু দিয়ে চলাচল করতে না পারায় দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। সময় ও টাকা-দু’টিরই ক্ষতি হচ্ছে ।
সওজ সূত্রে জানা যায়, জরাজীর্ণ ক্বীনব্রীজ সংস্কারের বিষয়ে ২০২০ সালে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়। সেখানে সেতু সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। পরে সওজের পক্ষ থেকে সেতুটি সংস্কারে মন্ত্রণালয়ের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় সিলেটের সওজ। একই বছরের জুন মাসে বরাদ্দের টাকা রেলওয়ের সেতু বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে নানা জটিলতায় সংস্কারকাজ হচ্ছিল না।
সেতু মেরামতের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. শিপন বলেন, ক্বীনব্রীজের মেরামতকাজ চলমান। দুই মাসের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও সেতুর দুই পাশের পাত অকেজো অবস্থা পাওয়া গেছে। এ জন্য নির্দিষ্ট সময়ের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। সেতুটি দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করতে আরও শ্রমিক নিয়োগ করে কাজ করানো হচ্ছে।
৩০ নভেম্বরের আগেই পথচারীদের জন্য ক্বীনব্রীজ খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে রেলওয়ে সেতু বিভাগের এক প্রকৌশলী বলেন, আরও দেড়মাসের জন্য ব্রীজটি দিয়ে যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সেতুটির দুই পাশে লাগানো পাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো মেরামত করতে সময় বেশি লাগছে। তবে ৩০ নভেম্বরের আগেই পথচারীদের জন্য ক্বীনব্রীজ খুলে দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে। ব্রীজের ওপর কার্পেটিংয়ের পর সেটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এএস // আতারা